Dhaka Mail Logo

প্রবাস / আন্তর্জাতিক

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সৌদির বিবৃতি

বিশেষ প্রতিনিধি

২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম

মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিবৃতি প্রকাশ করেছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আব্দুল বাসির এবং সিতি আক্তার। গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। 

মন্ত্রণালয়ের দাবি, মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গ্রেফতারের পর তদন্ত করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে। পরে সংশ্লিষ্ট আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করা হয়। 

সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে মসজিদের পবিত্রতা এবং সময় ও স্থানের মর্যাদা লঙ্ঘনের বিষয়টি উল্লেখ করে মৃত্যুদণ্ডের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। 

সৌদি আইনে ‘তাজির’ শাস্তির আওতায় বিচারক নির্দিষ্ট অপরাধের পরিস্থিতি বিবেচনায় শাস্তি নির্ধারণ করতে পারেন। এ মামলায় সেই বিধানের আওতায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এছাড়াও বিবৃতিতে দেশটির আইন ও ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। 

এর আগে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ‘গোপনীয়’ নথি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়। 

রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া ওই নথি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশি পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক ছিলেন।

জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম উইংয়ের পাঠানো ওই চিঠিতে মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনকে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের পাওয়া বন্দিদের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে নজরুলকে আটক করা হয়। এর পরেরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয় সুইটি আক্তারকে।

চিঠি অনুযায়ী, নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তারা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তবে ওই বন্দি তালিকায় তাদের কারো মৃত্যুদণ্ডের সাজার কথা উল্লেখ ছিল না। 

নথিতে বলা হয়, বন্দি তালিকায় ৯৭ জন বন্দির অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকলেও, এই দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলামে কোনো তথ্য দেওয়া ছিল না। 

সৌদি আরবে সাইবার আইন এবং ব্যভিচারের অপরাধে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যমতে, এর আগে সৌদি আরবে সাইবার অপরাধে বা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, এমন কোনো নজির নেই। 

নথি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ৩০৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। 

এতে সাইবার অপরাধের তিনটি আলাদা মামলার উল্লে­খ রয়েছে, যেখানে কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে যে, সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড বা তা কার্যকর করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে কোনোভাবেই বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলকে অবহিত করেনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়েছে, যেখানে রায়ের অনুলিপি এবং বিচার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। 

কনস্যুলেট জানিয়েছে, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হবে।  

এদিকে, সুইটির পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান তিনি। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামে। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। পরে ফোন করে বাড়িতে জানান তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ১৫ দিন আগেও ফোন করেছিলেন। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। তারা জানতে পেরেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সুইটিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং সম্প্রতি তা কার্যকরও করেছে। 

সুইটির বাবা ফজল মিয়া বিছানায় শুয়ে রয়েছেন। মা পরিবারের কাজ করছেন। সুইটির বাবা দিন মজুরের কাজ করেন। ফজল মিয়ার ৫ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুইটি। ৪ বছর আগে ধার-দেনা করে মেয়েকে সৌদি পাঠিয়েছিলেন।

ফজল মিয়া বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে সৌদিতে চাকরির জন্য পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে। এজন্য দেড় লাখ টাকা ধার করেছিলাম। প্রথম ৫ মাস সে বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিল। পরে একদিন ফোন করে জেলে যাওয়ার খবর জানায়।’

-এমএমএস