জেলা প্রতিনিধি
১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বিশ্বস্ত সেবা ও আন্তর্জাতিক মানের মেনু পরিবেশনের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাজ্যের ‘কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ ‘বেস্ট রেস্তোরাঁ অব দ্য ইয়ার’ খেতাব অর্জন করেছে ‘স্পাইস হেভেন’। যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই রেস্তোরাঁটির স্বত্বাধিকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাকিব রহমান।
রাকিবের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায়। তিনি মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মনোহরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল খালেকের ছেলে।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পার্ক লেনের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে রাকিব রহমানের হাতে এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পের শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে কারি লাইফ মিডিয়া গ্রুপের সংবাদমাধ্যম ‘কারি লাইফ ম্যাগাজিন’। বিশ্বখ্যাত এ আয়োজনটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বিবিসির জনপ্রিয় উপস্থাপক ও সাংবাদিক জন কে এবং লাক্ষ্মী গোপাল।
যুক্তরাজ্যজুড়ে হাজার হাজার গ্রাহকের প্রত্যক্ষ ভোট এবং বিচারক প্যানেলের চূড়ান্ত বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্তির পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে স্পাইস হেভেনের মালিক রাকিব রহমান বলেন, গ্রাহকদের আস্থাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। বছরের পর বছর ধরে গ্রাহকরা আমাদের কাছে ফিরে আসছেন এবং তাদের পরিবারের নতুন প্রজন্মকেও স্পাইস হেভেনের খাবারে অভ্যস্ত করছেন– এই ভালোবাসাই আজ আমাদের সেরা রেস্তোরাঁর মর্যাদা এনে দিয়েছে। একজন বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এমন সম্মান পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।
জমকালো এই পুরস্কার অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিনিধি ও পার্লামেন্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন- ডরসেটের ওয়েমাউথের এমপি লয়েড হ্যাটন, সমারসেটের টানটনের এমপি গিডিওন আমোস ওবিই, বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড স্টেপনির এমপি রুশনারা আলী এবং ব্রেন্ট ইস্টের এমপি ডন বাটলার।
অনুষ্ঠানে কারি লাইফের সম্পাদক সৈয়দ বেলাল আহমেদ বলেন, যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পে অনেক অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যবসায়ী ও রেস্তোরাঁ মালিক রয়েছেন। তাদের কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে পেরে আমরা আনন্দিত। ব্রিটিশ কারি শিল্প আবারও তাদের অসাধারণ অর্জনে সবাইকে গর্বিত করেছে।
যুক্তরাজ্যে বছরে ৪ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থনৈতিক লেনদেনের এই কারি শিল্পে ১০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ ও টেকঅ্যাওয়ে রয়েছে। যার বেশির ভাগই বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় অবদান রাখছে।
প্রতিনিধি/এলএ