প্রবাস ডেস্ক
০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্যারিসের ১৬তম অ্যারোঁদিসমঁতে অবস্থিত দূতাবাসে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
দূতাবাসের দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ফ্রান্স ও মোনাকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা (এনডিসি, পিএসসি)। বাণীতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। এ উপলক্ষে তিনি বীর জুলাই যোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান। বাণীতে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য বিজয়ের দিন এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে এ দিন ছাত্র-জনতা একটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের বাণীও পাঠ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুসংহত করা এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
দূতাবাস জানায়, ৫ আগস্ট পাসপোর্টসংক্রান্ত কনস্যুলার সেবা সীমিত থাকায় দিবসটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি একদিন আগে, ৪ আগস্ট আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ রহিম, বাংলাদেশি নাগরিক ফোরামের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, ফ্রান্স বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমেদ, ফ্রান্স বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এফবিজেএ) মুখপাত্র মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, এনসিপি ডায়াসপোরা ফ্রান্সের সভাপতি ইফতেশাম চৌধুরী, ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা ফারুক আহমেদসহ কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
এ সময় দূতাবাসের প্রথম সচিব শেখ মারেফাত তারিকুল ইসলাম, মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিলসহ দূতাবাসের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।