২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বর্তমান ল্য হাভরের মেয়র এবং ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী এদুয়ার ফিলিপকে ঘিরে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চলমান তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। অভিযোগ উত্থাপনকারী এক সাবেক সরকারি কর্মকর্তার হুইসেলব্লোয়ার (সতর্কবার্তা প্রদানকারী) মর্যাদা বহাল রেখেছেন প্যারিস প্রশাসনিক আদালত। তবে আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না; এটি কেবল অভিযোগকারীকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও দৈনিক ল্য পারিজিয়াঁ–এর খবরে বলা হয়েছে, মামলার সূত্রপাত ল্য হাভর সিটি হল ও একটি বেসরকারি সমিতির (অ্যাসোসিয়েশন) মধ্যে হওয়া একটি চুক্তিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই চুক্তির মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপব্যবহার, পক্ষপাতমূলক সুবিধা প্রদান, অবৈধ স্বার্থসংশ্লিষ্টতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমানে একজন তদন্তকারী বিচারক বিচারিক তদন্ত চালাচ্ছেন।
অভিযোগকারী কর্মকর্তা ‘জুডিথ’ নামে পরিচিত। নিরাপত্তার কারণে তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি ল্য হাভর নগর সম্প্রদায়ের সাবেক উপ-মহাপরিচালক। ২০২১ সাল থেকেই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত সম্পর্কে সতর্ক করে আসছিলেন। তাঁর অভিযোগ, একটি সরকারি চুক্তি এমনভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল, যাতে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ সুবিধা পেতে পারে।
এরপর ২০২৩ সালে তিনি ফ্রান্সের জাতীয় আর্থিক প্রসিকিউটর দপ্তরে (পিএনএফ) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর তদন্ত শুরু করে পিএনএফ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে তল্লাশি চালায়। পরে ২০২৫ সালের জুনে জুডিথ দেওয়ানি পক্ষ হিসেবে অভিযোগ দায়ের করলে আইন অনুযায়ী বিচারিক তদন্ত শুরু হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ফ্রান্সের একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুডিথকে আনুষ্ঠানিকভাবে হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফরাসি আইনে এ মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিরা চাকরি হারানো, হয়রানি, আইনি চাপ বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিশেষ সুরক্ষা পান।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ল্য হাভর সেইন মেত্রোপোল কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির সভাপতিত্ব করছেন এদুয়ার ফিলিপ। তাদের দাবি ছিল, হুইসেলব্লোয়ার স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল না এবং পুরো প্রক্রিয়ায় আইনি ত্রুটি রয়েছে।
কিন্তু গত ১৫ জুলাই প্যারিস প্রশাসনিক আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেন। আদালত রায়ে বলেন, কাউকে হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মানেই অভিযোগ সত্য বলে ধরে নেওয়া নয়। এই মর্যাদা শুধু অভিযোগকারীকে আইনি সুরক্ষা দেয়; অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ বা বিচারিক সিদ্ধান্তের সমতুল্য নয়। একই সঙ্গে আদালত ল্য হাভর সেইন মেত্রোপোলকে জুডিথের আইনি ব্যয় বাবদ এক হাজার ৮০০ ইউরো পরিশোধের নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, এদুয়ার ফিলিপ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি এবং নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ মনে করেন। চলতি বছরের মে মাসে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ তদন্তে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত (মিজ অন একজামেন) করা হলেও ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসবেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সের অন্যতম জনপ্রিয় মধ্যপন্থী রাজনীতিক হিসেবে বিবেচিত এদুয়ার ফিলিপের বিরুদ্ধে চলমান এই তদন্ত আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালত এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণ করেননি। ফলে মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল ও পরবর্তী বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর।
এমআই