১৯ জুন ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
প্যারিসে শুরু হয়েছে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ প্রদর্শনী ‘ভিভাটেক ২০২৬’। বুধবার (১৭ জুন) প্যারিস এক্সপো পখত দ্য ভার্সাই প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক দশক পূর্তির এই মেগা ইভেন্টের পর্দা ওঠে। ১৭ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই আসরে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও বিনিয়োগকারীরা সমবেত হয়েছেন।
এবারের আসরে অংশ নেওয়া স্টার্টআপের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে এবং প্রায় চার হাজার অংশীদার প্রতিষ্ঠান এতে যোগ দিয়েছে। প্রায় ৩ হাজার ৬০০ বিনিয়োগকারীর উপস্থিতিতে এই মেলা বিশ্ব প্রযুক্তি অর্থনীতিতে ভিভাটেকের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, এবারের প্রদর্শনীতে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার দর্শনার্থী অংশ নেবেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে ভিভাটেকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মরিস লেভি বলেন, গত এক দশকে প্রযুক্তি গবেষণাগারের সীমা ছাড়িয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। যেসব প্রযুক্তি এক দশক আগে কেবল কল্পবিজ্ঞানে সীমাবদ্ধ ছিল, আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং মহাকাশ প্রযুক্তির হাত ধরে সেগুলোই বাস্তবতাকে বদলে দিচ্ছে। ভিভাটেক এখন কেবল একটি আঞ্চলিক আয়োজন নয়, বরং বিশ্ব প্রযুক্তির ভবিষ্যতের রূপরেখা নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
বিশ্বের শীর্ষ বিলাসপণ্য প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচের প্রধান নির্বাহী বার্নার্ড আর্নো জানান, প্রযুক্তির সাথে সৃজনশীলতার সমন্বয়ই ভবিষ্যৎ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তিনি উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অ্যানালিটিক্স এখন ঐতিহ্যবাহী বিলাসপণ্য শিল্পেও আমূল পরিবর্তন আনছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে স্টার্টআপ সংস্কৃতি ও উদ্ভাবনী চিন্তার ধারাবাহিকতাই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।
এবারের আসরে জার্মানিকে কান্ট্রি অব অনার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ নেতৃত্বে ইউরোপীয় প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

উদ্বোধনী মঞ্চে ফরাসি ও জার্মান মন্ত্রীরা ইউরোপের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। তারা একমত পোষণ করেন যে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ইউরোপকে অবকাঠামো, গবেষণা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে একই সাথে সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা এবং প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহারের ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।
উদ্বোধনী দিনের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তিনি তার বক্তব্যে মহাকাশ অর্থনীতির অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। মহাকাশকে মানবজাতির পরবর্তী বড় অর্থনৈতিক সীমান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন এমন অবকাঠামো তৈরির কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য মহাকাশভিত্তিক নতুন নতুন ব্যবসার দুয়ার খুলে দেবে। তার মতে, ইন্টারনেটের মতো মহাকাশভিত্তিক অর্থনীতিও আগামী দশকগুলোতে নতুন এক শিল্প বিপ্লবের জন্ম দেবে।
সব মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার, মহাকাশ প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ এবং সবুজ উদ্ভাবনকে কেন্দ্র করে ভিভাটেক ২০২৬ আগামী দশকের বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থার এক শক্তিশালী দিকনির্দেশনা প্রদান করছে।
প্রতিনিধি