১৫ মে ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
বন্যা, ভূমিধস, খরা, তুষারধসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ২২১টি কমিউনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ফ্রান্স সরকার। ১৪ মে দেশটির সরকারি জার্নালে প্রকাশিত গেজেটের মাধ্যমে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা এখন তাদের বিমাকৃত সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন।
ফরাসি প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এলাকায় অস্বাভাবিক বন্যা, খরা, ভূমিধস, তুষারধস বা ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট কমিউনকে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলাকা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ স্বীকৃতি পেতে স্থানীয় প্রশাসনের আবেদনের ভিত্তিতে প্রতিটি এলাকার পরিস্থিতি পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হয়। পরে বিশেষজ্ঞ মতামত, আবহাওয়ার তথ্য ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা যাচাই করে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্রান্সের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলের বহু এলাকা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বুর্জ, ভিয়েরজঁ, ল্য মঁসহ কয়েকটি কমিউন। নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু বাড়িঘর, সড়ক, সেতু, কৃষিজমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়। অনেক পরিবারকে সাময়িকভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হয়।
বন্যার পাশাপাশি কয়েকটি অঞ্চলে ভূমিধস ও তুষারধসের ঘটনাও ঘটে। পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় মাটির স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ায় অনেক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কিছু এলাকায় তুষার গলার ফলে আকস্মিক পানি প্রবাহ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্স সরকার প্রায় ৩০০ কমিউনকে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলাকা হিসেবে বিবেচনার ঘোষণা দেয়। পরে প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য বিশ্লেষণ এবং আইনি শর্ত পূরণের পর ২২১টি কমিউনকে চূড়ান্তভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়। বাদ পড়া এলাকাগুলোর বিষয়ে পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সরকারি গেজেট প্রকাশের পর এখন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা তাদের বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে ক্ষতিপূরণের আবেদন করতে পারবেন। সাধারণত বাড়িঘর, আসবাবপত্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন ও কৃষি সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এই ব্যবস্থার আওতায় আসে। তবে ক্ষতিপূরণ পেতে ক্ষতিগ্রস্তদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়।
ফ্রান্সে ১৯৮২ সাল থেকে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা’ চালু রয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির একটি অংশ রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও বিমা কাঠামোর মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়তে থাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের ক্ষতিপূরণ দাবির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফরাসি পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও দীর্ঘমেয়াদি খরার ঘটনা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নদীসংলগ্ন ও নিম্নাঞ্চলগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলায় অবকাঠামো উন্নয়ন, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় আরো বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
সরকার জানিয়েছে, গেজেটে নাম প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কমিউনগুলোর বাসিন্দাদের দ্রুত বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিনিধি/এফএ