images

প্রবাস

তারেক রহমানকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান এনায়েত উল্লাহ

০৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

বহুল প্রতীক্ষিত  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জয়লাভ করে। এই নির্বাচন ঘিরে সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে ছিল একটি উৎসব মুখর পরিবেশ বিশেষ করে রাজনীতিবিদদের মধ্যে ভিন্ন এক অনুভূতি তৈরি হয়। 

এর আগে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই  নির্বাচন সঠিক সময়ে হবে কি না? অবশেষে সঠিক সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন হল। এবং বড় ধরনের কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন শেষ হয়। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মত প্রবাসীদের মুখপাত্র আয়েবা মহাসচিব এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী এনায়েত উল্লাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৭ আসনে দেশের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমান এবং জামায়াতের মনোনয়ন পাওয়া ড. খালিদুজ্জামানের সাথে সমান তালে নিজ এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ফ্রান্স প্রবাসী এই আলোচিত প্রার্থী এনায়েত উল্লাহ।

নির্বাচনের পূর্বে তিনি একাদিক জনসংযোগ করলে আলোড়ন সৃষ্টি হয় জনমনে। পরে নির্বাচনকালীন জনসংযোগের মাঝেই তিনি ধানের শীষের প্রতীককে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। 

এরপর আলোচনা আবারও তুঙ্গে উঠে। এনায়েত উল্লাহ শুধু ধানের শীষ প্রতীকে সমর্থন করে থেমে থাকেনি বরং তার যত ভোটার রয়েছে সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে আহবান জানান তিনি। এবং আনন্দের বিষয় সেই আসন থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জয়লাভও করেন। যিনি এখন বাংলাদেশের ১১ তম প্রধানমন্ত্রী।

ওই সময় বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনী এলাকা যখন সরগরম ঠিক ওই মুহূর্তে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুখ খুলেন এবং নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পুরো বিষয়টি জানার চেষ্টা করি। 

২০১৬ সালে বিএনপির চেয়ারম্যান-বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী তারেক রহমান প্রখ্যাত প্রবাসী নেতা ও ব্যবসায়ী কাজী এনায়েত উল্লাহকে লন্ডনে আমন্ত্রণ জানান। তৎকালীন সময়ে  এনায়েত উল্লাহ প্রবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশন এবং স্ত্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। 

tarek_zia

বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক ব্রিটিশ এমপি, জেন ল্যাম্বার্ডের সঙ্গে তার অত্যন্ত শক্তিশালী কূটনৈতিক যোগাযোগ ছিল। সেই সময়টি ছিল দেশের রাজনীতির জন্য এক কঠিন ক্রান্তিকাল। নির্বাসিত জীবনে থেকেও জনাব তারেক রহমান তখন দলকে সুসংগঠিত করার এবং তৎকালীন আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন। 

বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বার্থে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন (আয়েবা)-এর কার্যক্রম তার নজর কেড়েছিল। লন্ডনে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার প্রথম বৈঠকেই তারেক রহমান ইউরোপীয় সরকার ও ইইউ কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশের বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর চলা অমানবিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরার অনুরোধ জানান।  

এনায়েত উল্লাহ আয়েবাকে অরাজনৈতিক রাখার অঙ্গীকারে ব্রত থাকলেও, মানবতার বিরুদ্ধে যেকোনো অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। কাজী এনায়েত উল্লাহর দেশপ্রেম দলীয় গণ্ডির ঊর্ধ্বে। রানা প্লাজা ধ্বসের পর যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বর্জনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং জিএসপি সুবিধা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন কাজী এনায়েত উল্লাহ এবং বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দের সময়োচিত ও বিশেষ ভূমিকার কারণেই কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি। 

এভাবেই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত—পোশাক শিল্প। শ্রমিকদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে ‘অ্যাকর্ড’ ও ‘অ্যালায়েন্স’ গঠিত হয় এবং কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বাংলাদেশের বাইরে প্রথমবারের মতো প্যারিসে আয়োজিত হয় বস্ত্র মেলা ‘বাটেক্সপো’।  সেই সময় জনাব কাজী এনায়েত উল্লাহর এই নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম ও প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের লড়াইকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন তারেক রহমান। 

দীর্ঘ এই পথপরিক্রমায় তাদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে গভীর শ্রদ্ধা ও অটুট বিশ্বাসের ওপর। সেই সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানিয়েই, ঢাকার বনানীর ঐতিহ্যবাহী 'চেয়ারম্যান পরিবারের' সন্তান কাজী এনায়েত উল্লাহ সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। 

তবে শেষ মুহূর্তে জনাব তারেক রহমান অত্র আসনে প্রার্থী হওয়ায়, দীর্ঘদিনের আদর্শিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে তাকে পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি জানান এবং ভোটারদের প্রতি ভোট দিয়ে জনাব তারেক রহমানকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান এরফলে জনসমর্থনের প্রসংশায় ভাসেন তিনি।  

এনায়েত উল্লাহ সম্পর্কে বিএনপির মিডিয়া সেলের তথ্যে আতিকুর রহমান রুমনের কথা অনুযায়ী, এনায়েত উল্লাহ হলেন একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি। তিনি নিজ অর্থে নির্বাচনি কার্যক্রম চালাতে সক্ষমতা রাখেন। তাছাড়া তার নিজস্ব পারিবারিক ভোটব্যাংকও রয়েছে, যার সংখ্যাও কম ছিল না- প্রায় ১০ হাজার।