৩১ মার্চ ২০২৪, ০৩:৪৫ পিএম
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে কানাডার টরন্টোতে প্রদর্শিত হলো স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা আকরাম খান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘নকশী কাঁথার জমিন’।
টরন্টো ফিল্ম ফোরামের আয়োজনে টরন্টোর ৩০০০ ড্যানফোর্থ এভিনিউর ‘মাল্টিকালচারাল ফিল্ম স্ক্রিনিং সেন্টারে’ এ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা বীর মুক্তিযোদ্ধা মাশরুকুল হক।
স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতি সম্মান জানিয়ে টরন্টোতে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করায় টরন্টো ফিল্ম ফোরামের সদস্যদের ধন্যবাদ দেন মুক্তিযোদ্ধা মাশরুকুল হক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সুষ্ঠু উপস্থাপনায় চলচ্চিত্রের ভূমিকা অনন্য।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন টরন্টো ফিল্ম ফোরামের সভাপতি এনায়েত করিম বাবুল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টরন্টো ফিল্ম ফোরামের অনুষ্ঠান সম্পাদক গৌতম শিকদার।
মুক্তিযোদ্ধা মাশরুকুল হক ছাড়াও তার দুই ভাই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধে তার ছোট ভাই মোশতাকুল হক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং যুদ্ধের কিছুদিন পরে মৃত্যুবরণ করেন। এই তিন মুক্তিযোদ্ধার সর্বকনিষ্ঠ ভাই হচ্ছেন টরন্টোর রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী নবিউল হক বাবলু।

উল্লেখ্য, নন্দিত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের ‘বিধবাদের কথা’ গল্পের ওপর নির্মিত ‘নকশী কাঁথার জমিন’ চলচ্চিত্রটিতে মুক্তিযুদ্ধে নারীর আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বাইরে যখন প্রবল যুদ্ধে প্রতিদিন দুই পক্ষের মানুষ নির্দয়ভাবে মারা যাচ্ছে, তখন পরিবারের ভিতরেও শুরু হয়েছে দুই মতাবলম্বী ভাই ও তাদের ছেলেদের তীব্র ঘৃণা ও শত্রুতা। এই থেকেই সূত্রপাত গৃহযুদ্ধের। এসবের ভেতর দিয়ে দুই বোনের সম্পর্ক, তাদের অসহায়ত্ব আর সংগ্রামের গল্প নিয়েই ‘নকশী কাঁথার জমিন’।
চলচ্চিত্রটিতে কেন্দ্রীয় দুই বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান ও ফারিয়া শামস সেওতি। জয়ার ছোটবোনের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন ফারিয়া শামস সেওতি। চলচ্চিত্রের অন্য শিল্পীরা হচ্ছেন— ইরেশ যাকের, রওনক হাসান, দুই ভাই দিব্য জ্যোতি ও সৌম্য জ্যোতি, লাবণ্য চৌধুরী, আদ্রিতা ইবনাত খান প্রমুখ।