images

রাজনীতি

ঢাকা-৮: বিএনপির ‘প্রার্থী’কে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন মেনন

কাজী রফিক

২৩ মার্চ ২০২৩, ০৮:৫১ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছরেরও কম সময় বাকি। ২০২৪ সালের প্রথম সপ্তাহে ভোট হওয়ার কথা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে চলতি বছরের নভেম্বরে। তবে এরইমধ্যে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে দেশজুড়ে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে চায়। দলটি ইতিমধ্যে তাদের নির্বাচনী প্রচারণাও শুরু করেছে। অপরদিকে সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনে মাঠে আছে বিএনপি। আর পারিবারিক কলহের মধ্যদিয়ে গেলেও ভোটের বিষয়ে চোখ-কান খোলা জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের।

দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২০টি ঢাকায়। তার একটি ঢাকা-৮। সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ঢাকা-৮ জাতীয় সংসদের ১৮১নং আসন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ০৮, ০৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০, ২১নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।

আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। তিনি বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। ২০০৮ সালে আসনটি থেকে মহাজোট থেকে প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে বিরোধীরা নির্বাচন বর্জন করে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলে রাশেদ খান মেনন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালেও পুনঃনির্বাচিত হন তিনি।

আসনটিতে রাশেদ খান মেননের বিপরীতে অবস্থান করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন খোদ রাশেদ খান মেনন।

আসনটিতে সিটি করপোরেশনের যে ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে, তার মধ্যে একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিএনপিপন্থী।

কাউন্সিলর মির্জা আসলাম আরিফ ঢাকা-৮ আসনের অন্তর্গত ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। বিএনপিপন্থী এই নেতা জানান, ভোটের ফলাফল নির্ভর করবে ভোটের পরিবেশের ওপর।

ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, নির্বাচনটা হবে কিনা? নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে কি না? মানুষ ভোট দিতে পারবে কিনা? মানুষের মধ্যে একটা শঙ্কা অনেক আগে থেকেই রয়েছে। এই শঙ্কাটা কিন্তু দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। কোনো আশার আলো কিন্তু কেউ দেখতে পাচ্ছে না। এজন্য মানুষের ভেতরে একটা সংশয় আছে যে যে তারা ভোট দিতে পারব কিনা।

abbas

তিনি বলেন, যদি ভোটাভুটি হয়, মানুষ তো চিন্তা করবে যে আসলে পরিবর্তন দরকার। এটা বোঝা যাবে বা নির্ভর করবে সুষ্ঠ নির্বাচনের পরিবেশের উপর।

তিনি বলেন, যোগ্য যদি বলেন, স্বতন্ত্র কেউ ঢাকা-৮ আসনে নেই। আমি কাউকে দেখি না। দশজন তাকে চিনবে এই কারণে নির্বাচনের আগে স্বতন্ত্রপ্রার্থী বের হয়। কিন্তু আসলে ওইরকম স্বতন্ত্র প্রার্থী কেউ নেই।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা আব্বাসের বিকল্প কেউ ঢাকা-৮ আসনে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আব্বাস ভাইকেই আসলে দেখছি এবং তার বিকল্প নাই। তবে দল থেকে যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটাই। এটা দলীয় ব্যাপার।

ঢাকা দক্ষিণের ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুলতান মিয়া আওয়ামী লীগপন্থী। মহাজোটের প্রার্থীর বিষয়ে তার ভাবনা বেশ ইতিবাচক।

ঢাকা মেইলের সঙ্গে আলাপকালে এই জনপ্রতিনিধি বলেন, এটা নিয়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা-ভাবনা আছে। মতিঝিল এলাকা, পরিচ্ছন্ন-সজ্জ্বন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে দিচ্ছেন এখানে। আমরা আশা করব, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে যারা আছে, আমাদের দলীয় আছেন, দলের বাইরে আছেন, ভালো একজন লোককেই দেবেন। সে ক্ষেত্রে আমাদের চাওয়া নাই। আমরা এতদিন রাশেদ খান মেননের সঙ্গে আছি। তিনি স্বাধীনতার পক্ষের এবং প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন। তিনি দুই দুইবার মন্ত্রী ছিলেন।

আগামী নির্বাচনে আসনটি থেকে কে প্রার্থী হবেন এমন সিদ্ধান্তের ভার তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপরই ছেড়ে দেন।

এদিকে ঢাকা-৮ আসনে গত তিন বারে শিক্ষা খাতে বেশ উন্নয়ন সাধিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন।

ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, মতিঝিল সেন্টার অব ঢাকা। আমরা এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আরও করা হবে।

এ ছাড়া সড়ক অবকাঠামো থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের জায়গা থেকে যেটুকু করা যায়, তার পুরোটাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।

তার মতে, ঢাকা-৮ আসনে মাদক একটি বড় সমস্যা। যা রুখতে এরইমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পদক্ষেপ আরও বাড়ানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিএনপি এখনো বলে আসছে, এই সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবেন না। শেষ পর্যন্ত এই সরকারের অধীনে কিংবা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, যেভাবেই নির্বাচন হোক যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে, সে ক্ষেত্রে মির্জা আব্বাসকে কতটা শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখছেন? ঢাকা মেইলের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, গতবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি নির্বাচন করেন নাই। এবারও বলছেন, তিনি নির্বাচন করবেন না।

মির্জা আব্বাস আপনাকে হারানোর যোগ্যতা রাখেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মেনন বলেন, তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই।

এ বিষয়ে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কারই/জেএম/এমআর