নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৪৩ পিএম
নতুন করে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের দাবি তুলে ২৭ দফা রূপরেখা প্রস্তাব পেশ করেছে বিএনপি। সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনে রূপরেখাটি তুলে ধরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে থাকা বিএনপি। দলটির দাবি, ক্ষমতায় যেতে পারলে এসব দফা বাস্তবায়ন করে রাষ্ট্রের কাঠামো নতুন করে তারা মেরামত করবেন। তাদের উপস্থাপিত এই ২৭ দফা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
২৭ দফার মধ্যে সংবিধান সংশোধন, টানা দুইবারের বেশি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন না করা, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা, উচ্চকক্ষের আইনসভা চালুসহ সংবিধানে গণভোট ব্যবস্থা পুনপ্রবর্তন এবং এক বছর বেকার ভাতা দেওয়ার কথা বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া রূপরেখায় জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থা পুনপ্রবর্তন, মিডিয়া কমিশন ও অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে বিএনপির ২৭ দফা রূপরেখা ঘোষণা
বিএনপির সমমনা দলগুলো এসব দফাকে স্বাগত জানিয়েছে। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বেশির ভাগ দলের শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিতও ছিলেন। এসব দফা বাস্তবায়নে তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহায়তা করবেন বলে আশ্বাসও দিয়েছেন।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের মিত্রদের মধ্যে এই ২৭ দফার বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতারা এসব দফার সমালোচনা করে বলেছেন, বিএনপি যে ধারার রাজনীতি করছে তাদের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে। তারা আর ক্ষমতায় গিয়ে এসব ধারা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে না। সুশীল সমাজের মধ্যে ২৭ দফা নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
কী বলছে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা
বিএনপির রূপরেখা প্রকাশের আগেই সোমবার সকালে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে এখন তারাই আবার মেরামতের কথা বলে, যেটা হাস্যকর। বিএনপি-জামায়াত রাষ্ট্রকে ধ্বংস করেছে, আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে তা মেরামত করেছেন।’
যারা (বিএনপি) রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে তারা কী করে দেশের মেরামত করে প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেশ মেরামত করেছেন শেখ হাসিনা। বিএনপির আমল থেকে এখন সবকিছু ভালো আছে। দেশের মধ্যে যা মেরামত, তা আওয়ামী লীগই করছে।’

অন্যদিকে বিএনপি দেশে ‘মার্শাল ডেমোক্রেসি’ আনতে চায় কি না প্রশ্ন রেখেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যে রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলছে, দেশকে তারা জিয়াউর রহমানের মার্শাল ডেমোক্রেসিতে নিয়ে যেতে চায় কি না সেটিই হচ্ছে আমার প্রশ্ন।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘আসলে যাদের জন্ম অগণতান্ত্রিকভাবে, তারা যখন রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলে তখন মানুষ ভাবে বিএনপি আবার মার্শাল ডেমোক্রেসি ফিরিয়ে আনতে চায়।’
এদিকে বিকেলে বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ১৪ দল আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তারা বিএনপির ২৭ দফার সমালোচনা করেন। তারা বলেন, বিএনপি আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে, তার আর কোনো দফাই বাস্তবায়ন করতে পারবে না।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জাতীয় পার্টি-জেপি সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো দিন এক দফা, কোনো দিন ২৭ দফা দিচ্ছেন। এসব কাজ থেকে বিরত থেকে আসুন গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ধারাকে অব্যাহত রাখি।’

শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা যা চান আমরাও তাই চাই। আপনারা চান অবাধ নির্বাচন, আমরাও চাই অবাধ নির্বাচন। আপনারা চান অন্তভুক্তিমূলক নির্বাচন, আমরাও চাই। আপনারা নির্বাচনে এলেই তো অন্তভুক্তিমূলক নির্বাচন হবে।’
ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যদি ঐক্যবদ্ধ হয় বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়া তো দূরের কথা বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তারা নাকি সংবিধান পরিবর্তনের জন্য কমিশন গঠন করবে। সংবিধান বাতিল করার জন্য স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি রাস্তায় নেমেছে। এই সংবিধান ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে রচিত হয়েছে। অসাংবিধানিক উপায়ে সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ নেই।’
জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, ‘বিএনপি দেশে অসাংবিধানিক ধারা তৈরি করতে চায়, নির্বাচন পদ্ধতিকে অস্বাভাবিক করতে চায়। কোনো আপস ফর্মুলা নয়, অসাংবিধানিক দাবি মেনে নেব না। বিএনপি-জামায়াতকে রুখে দাঁড়াবার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলার মাটিতে পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের ঠাঁই হবে না। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। বিএনপি সেই উন্নয়ন গুড়েবালি করে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে।’
জেবি