জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৭ নভেম্বর ২০২২, ০১:২১ পিএম
বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন ধর্মঘটের জন্য নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তাকে নিয়ে মন্ত্রীরা যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা অসত্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ বলে দাবি করেছেন শিমুল।
সোমবার (৭ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী।
শিমুল বিশ্বাসের দাবি, বিএনপির গণসমাবেশের আগে যে ধর্মঘট করা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এমনকি সাধারণ শ্রমিক মালিকদের কোনো ধরণের সম্পর্ক নেই।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে শিমুল বিশ্বাস বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, এমনকি জাতীয় সংসদেও বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা। গত বুধবার জাতীয় সংসদে পরিবহন ধর্মঘট প্রসঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এমনকি এই ইস্যুতে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদও প্রতিনিয়ত মিথ্যা বক্তব্য দিচ্ছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজকে আমার এই সংবাদ সম্মেলন।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারের ফ্যাসিবাদী মনোভাব আর দখলদারিত্বের কারণে ইতোমধ্যে দেশের সব প্রতিষ্ঠান প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ঠিক একইভাবে শ্রমিক ও মালিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন কুক্ষিগত করে রেখেছে ক্ষমতাসীনরা। যার ফলে সরকার সড়ক পরিবহন মালিক/শ্রমিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বিএনপির গণ-সমাবেশের আগে ধর্মঘট ডাকছে।
সরকার নিজে ধর্মঘট ডেকে স্থানীয়ভাবে পুলিশ এবং সরকারদলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন এই পরিবহন নেতা। বলেন, ‘গণসমাবেশের আগের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা আমলে নিলে এটা দিবালোকের মত পরিষ্কার যে, আমার নাম ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক সংগঠনকে জড়িয়ে যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রীসহ সরকারি দলের মন্ত্রীরা যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যমূলক অপকৌশল মাত্র।
আরও পড়ুন: বিএনপির শিমুল বিশ্বাসরাই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন: তথ্যমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘সবাই জানেন তারপরও আমি আপনাদের সামনে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, বিএনপির গণসমাবেশের আগে যে ধর্মঘট করা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এমনকি সাধারণ শ্রমিক মালিকদের কোনো ধরণের সম্পর্ক নেই। পুরোপুরি সরকারের নির্দেশে অতি উৎসাহী পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন আর ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবহন ধর্মঘট করেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট স্থানীয় মালিক ও শ্রমিক নেতারা এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সেই বক্তব্য দিয়েছেন। যা গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রকাশিতও হয়েছে।
ধর্মঘটের ফলে মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারের জোরপূর্বক এই ধর্মঘটের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পরেছে দেশের সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক উভয়পক্ষ। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, সড়ক পরিবহন সেক্টরের মালিক-শ্রমিক কোনো পক্ষই এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ধর্মঘট চায় না। সবাই ধর্মঘটের বিরুদ্ধে। কিন্তু সরকারের চাপের মুখে, ক্ষমতাসীনদের পেশীশক্তি আর দমন-পীড়নের কাছে নিরুপায়। কোন কোন এলাকায় এমন ঘটনাও ঘটেছে যে, জীবন-জীবিকার তাগিদে সড়কে গাড়ি বের করলে সরকারদলীয় ক্যাডারদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন অনেক পরিবহন শ্রমিক। জরুরি প্রয়োজনে মানুষ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে পারেনি। এমনকি সংকটাপন্ন রোগী নিয়েও হাসপাতালে যেতে পারেননি স্বজনরা। তাই এই ধর্মঘট গণমানুষের বিপক্ষে।
সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিবহন সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বিরোধীদলের শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশের আগে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী এই ধর্মঘট ডাকছে। এমনকি বরিশালে খেয়া নৌকা পর্যন্তও বন্ধ করেছিল। এতেই সরকারের উদ্দেশ্য প্রকাশ হয়েছে। শুধুমাত্র অন্যায়ভাবে আমার নামে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।
সেবামূলক সড়ক পরিবহন সেক্টরকে সরকার পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্য ফেলে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শিমুল বিশ্বাস।
তাকে উদ্দেশ্য করে কেন সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী বলেন, এটা যারা আক্রমণ করেন তারা ভালো বলতে পারবেন। তবে নিজেদের অন্যায় কাজের দায় অন্যের উপর চাপানোর জন্য এমনটা বলা হচ্ছে।
অতীতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তার নির্দেশে পরিবহন ধর্মঘট ডাকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিমুল বিশ্বাস বলেন, অনেক আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনকার যে ধারাবাহিকভাবে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে এটাকে বিচার করা কতটা যুক্তিযুক্ত হবে সেটা সবার বিবেকের কাছে জানতে চাওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাসহ ঢাকা জেলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিইউ/এমআর