Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

৭ নভেম্বরের চেতনাই ছিল জুলাই বিপ্লবের অন্তর্নিহিত শক্তি: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ এএম

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের চেতনাই ছিল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্তর্নিহিত শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে দিবসটি উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান বিএনপির এই নেতা।

বাণীতে রিজভী বলেন, ছাত্র-জনতার সাহসী প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। জুলাই বিপ্লবের অন্তর্নিহিত শক্তি ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। এ কারণে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের গুরুত্ব এখনো অপরিসীম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয় দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যয় নিয়ে সৈনিক ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। জাতীয় জীবনে এই বিপ্লবের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর।

 

রিজভী আরও বলেন, স্বাধীনতার পর তৎকালীন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে দেশের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছিল। মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল একদলীয় শাসনব্যবস্থা। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ করে বাকশাল নামে একমাত্র রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়। পাশাপাশি ভিন্নমত প্রকাশকারী সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়ায় দেশে অস্থিরতা ও নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশের এমন সংকটময় সময়ে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর চক্রান্তকারীরা স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করে। সেই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর স্বাধীনতা রক্ষার প্রত্যয়ে দেশপ্রেমিক সৈনিক ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক সংহতির ফলে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন।

তিনি বলেন, ওই পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী ভিত্তি পায়। গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত হয় এবং জনগণ নাগরিক স্বাধীনতা ফিরে পায়। ৭ নভেম্বর থেকেই বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। দেশে উৎপাদন ও সমৃদ্ধির ধারা তৈরি হয় এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতির ভিত্তি রচিত হয়। বাংলাদেশ ক্রমে স্বনির্ভর হয়ে ওঠে।

জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিদেশি শক্তির এদেশীয় সহযোগীরা নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথে বাধা মনে করে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। জিয়া শাহাদাত বরণ করলেও তার আদর্শে অনুপ্রাণিত মানুষ দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় এখনো অঙ্গীকারবদ্ধ।

গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণীতে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্মমভাবে ব্যবহার করেছে। গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছিল। সরকারের নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় লাখ লাখ নেতাকর্মীসহ ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল।

বাণীর শেষাংশে মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে আবারও আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রুহুল কবির রিজভী।