Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ এএম

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। পাল্টে যায় রাষ্ট্রক্ষমতার সমীকরণ, নতুন মোড় নেয় দেশের রাজনীতি।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্যেও তিনি দেশে স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন।

ইতিহাসের বিবরণ অনুযায়ী, ওই বছরের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনার পর সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তার অনুসারী সেনাসদস্যদের নিয়ে অভ্যুত্থান ঘটান। এ সময় সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি করা হয়।

পরে নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন খালেদ মোশাররফ। ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদকে গ্রেফতার, মন্ত্রিসভা বাতিল এবং জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই রাতেই সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

এ ঘটনায় সিপাহিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে আসেন। সিপাহি ও জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পাল্টা অভ্যুত্থান প্রতিরোধ করতে গিয়ে ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন সহযোগীসহ নিহত হন খালেদ মোশাররফ। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। জিয়াউর রহমান আবারও রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন।

বিএনপির কর্মসূচি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। কর্মসূচির প্রথম দিন আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

এরপর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে আয়োজিত শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির কথা জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।