Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

নিহত তৌফিকের পরিবারকে জামায়াতে আমিরের ফোন, পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তৌফিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে তৌফিকের পরিবারের সদস্যদের ফোন করেন জামায়াত আমির। পরে নিজের ফেসবুক পোস্টে ফোনালাপের বিষয়টি জানান তিনি।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, তৌফিকের স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় দুজনই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের মধ্যে বড় হয়েছে। দুই ভাই একই পোশাক কারখানায় একসঙ্গে চাকরি করতেন। চোখের সামনে ভাইকে হারিয়ে বড় ভাই ভেঙে পড়েছেন। হাসপাতালে গিয়েও ভাইকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় দেখতে হয়েছে। শেষবারের মতো তার সঙ্গে কথাও বলতে পারেননি।

তৌফিকের স্ত্রীর কষ্টের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির লেখেন, স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী সদ্য বিধবা হয়েছেন। অভাবের কারণে তিনিও আগে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তবে একমাত্র সন্তানের জন্মের পর তার লালন-পালনের জন্য চাকরি ছেড়ে দেন। তাদের সন্তান সিয়ামের বয়স এখন মাত্র ১১ মাস।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, পরিবারটির গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় নিজেদের কোনো জমি বা বসতভিটা নেই। বর্তমানে স্বামীর চাচার ছোট একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। পরিবারটির এমন দুরবস্থা দেখে তার খুব খারাপ লেগেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তৌফিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান। দেশে দরিদ্র মানুষের বিচার পাওয়ার সুযোগ কতটা রয়েছে, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানাবেন। তার মতে, ন্যায়বিচার পেলে বিধ্বস্ত পরিবারটি কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাবে।

তিনি বলেন, আমরা ইনশাআল্লাহ এই পরিবারের পাশে থাকব। আল্লাহ তাআলা এই অসহায় পরিবারের সহায় হোন।

ফোনালাপের সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাইবান্ধা জেলা শাখার আমির আব্দুল করিম, সাবেক জেলা আমির ও চিকিৎসক এবং গোবিন্দগঞ্জ আসনে গত সংসদ নির্বাচনে দলটির প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আমিরসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

টিএই/এএস