Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

এক মাস পর মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কারামুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ এএম

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি–সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় কারামুক্ত হয়েছেন সাবেক সংসদ সংস্য ও জামায়াত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কেরাণীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন তিনি। জেলগেটে তাকে বরণ করে নেন জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কামাল হোসেন ও সেলিম উদ্দিনসহ দলটির নেতাকর্মীরা।

এর আগে গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল রেখে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। ফলে তার মুক্তির বাধা কেটে যায়।

আদালতে আক্তারুজ্জামানের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

তার আগে গত রোববার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় আখতারুজ্জামানকে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পরে এই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

akter

এরও আগে ৪ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন তিনি।

গত ২ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি নিয়ে অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।

গ্রেফতারের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আখতারুজ্জামানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরেন। তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইমিগ্রেশন শেষে যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় যান।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহে সাময়িক সংকট দেখা দেয় এবং দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম না মেনে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। অন্যদিকে, লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যাত্রী উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এমআর