জেলা প্রতিনিধি
০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১০ এএম
গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বাজার সিন্ডিকেট বিলোপসহ সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্র ঘোষিত ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে কুষ্টিয়ায়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় পৌঁছানো সহস্রাধিক গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চটি বিকেল সাড়ে ৫টায় সমাবেশস্থলে পৌঁছায়। কর্মসূচি চলে মধ্যরাত পর্যন্ত।
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রাত ১২টার দিকে গাড়িবহর নিয়ে তিনি শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে পৌঁছালে হাজারো নেতাকর্মী মুঠোফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘বিকেল থেকে শুরু করে এখন প্রায় ১২টা বাজতে চলেছে। কুষ্টিয়ার স্টেডিয়ামে আজ ১২টা বাজছে, কিন্তু এর আগেই বর্তমান সরকার জাতির ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে গণভোটের রায় ও সংসদ নির্বাচনের ভোটে বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। জনগণ আর এই অন্যায় মেনে নেবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা আজ দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন থামবে না। প্রয়োজনে কুষ্টিয়া থেকে চূড়ান্ত এক দফার লড়াই শুরু হবে।’
সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. গণভোটের কাঙ্ক্ষিত রায় অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করা।
২. জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।
৩. তেল, সার, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এনে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।
৪. চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দখলদারি ও স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটানো।
৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন করে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৬. বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।
৭. দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক ও সুজা উদ্দিন জোয়ার্দারের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন এলডিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আদিলুর রহমান আরিফ, জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, ১১ দলীয় ঐক্যের সহ-সমন্বয়ক ড. এ. এইচ. এম. হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ইব্রাহীম রনি।

এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন।
সভাপতির বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিন লংমার্চ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে লংমার্চ ও সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রতিনিধি/এসএস