Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

বিএনপি অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি, নতুন জঞ্জাল সৃষ্টি করছে: জামায়াত আমির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৫ এএম

বিএনপি অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি, বরং নতুন নতুন জঞ্জাল সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

জামায়াত আমির বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে। জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।

জামায়াতের আমির বলেন, তারা কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামেননি। এসব জনগণের দাবি। জনগণের সহযোগিতায় তাদের আগের দুটি লংমার্চ সফল হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবির মধ্যে মূল দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। এই দাবি পূরণ হলে বাকি ছয়টি দাবি সামনে আসত না।

jamat 4ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে, জনগণকে আশাহত করেছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে চড়া মূল্য দিতে হবে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে তারা নতুন নতুন জঞ্জাল সৃষ্টি করছে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছে, তারা নিজেদের পরিণতি ভোগ করছে। সরকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, জনগণের দাবি মেনে নিন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করুন। দাবি আদায় করেই তারা রাজপথ ছাড়বেন।

যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারও ছলনায় কান দেওয়া যাবে না। আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে। জনগণের দাবি আদায়ে লংমার্চ সফল করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, তারা চান দেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হোক। সিস্টেম ভালো না থাকলে দেশ ভালোভাবে চলতে পারে না। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলা, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন করপোরেশন বিএনপির কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। সেখান থেকে সব টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

jamat-3বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করছে এবং তাদের অসম্মান করছে।

তিনি আরও বলেন, গণভোট অবৈধ হলে এ সরকার ও সংসদও বৈধ হতে পারে না। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। তেল-গ্যাস সংকটে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বেড়েছে।

jamat-2জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি ভুল পথে পা বাড়িয়ে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। সংবিধান সংস্কার না করে সংবিধান সংশোধন কমিটি করে সরকার একদলীয় শাসনের পথে এগোচ্ছে। জুলাই সনদের সঙ্গে গাদ্দারি করে সরকার জনগণকে লাল কার্ড দেখিয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলের কর্মীদের আহত করারও নিন্দা জানান তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম ছোবহানী, জাগপা সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

jamat 1জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক সমাবেশটির সঞ্চালনা করেন।

লাখো মানুষের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়, খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর ও ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লীর মোড় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা করার কথা রয়েছে। সবশেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া লংমার্চের পথে বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

উল্লেখ্য, দাবি আদায়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চ করে ১১ দলীয় ঐক্য।

টিএই/এমআর