জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫২ এএম
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম, ভোটারদের বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচনী এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা এবং ব্যালট বইয়ের মুড়িতে আগাম সিল ও স্বাক্ষর করে রাখার অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন নারী ভোট দিতে গিয়ে জানতে পেরেছেন, তার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো এবং নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বইয়ের মুড়িতে আগাম সিল ও স্বাক্ষর করে রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটারকে ব্যালট দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিল ও স্বাক্ষরের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। আগাম সিল ও স্বাক্ষর করে রাখার ফলে জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র না থাকা এবং তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করতে সমস্যার অভিযোগও করেন গোলাম পরওয়ার। নির্বাচনী এলাকায় অর্থ বিতরণ, নারী ভোটারদের বাধা দেওয়া এবং জামায়াতের নেতাকর্মীদের মারধর করে আহত করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করলে চাকরিতে সমস্যায় পড়তে পারেন—এমন ইঙ্গিত দিয়ে তাঁদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাইরুজ ইসলামের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট একটি দলের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তোলা হলেও তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল জামায়াত।
গোলাম পরওয়ারের দাবি, নির্বাচনের আগে জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নয় দফা লিখিত অভিযোগ ও তিনটি দাবি জানিয়েছিল। পরে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। তবে এসব অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, সরকারদলীয় শীর্ষ পর্যায় থেকে উপনির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করা হলেও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো, ধানের শীষ প্রতীক রঙিনভাবে ব্যবহার এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসব অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বেশি থাকলেই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাল ভোট প্রতিরোধ এবং কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর কার্যকর ভূমিকা থাকতে পারত।
তিনি বলেন, একটি উপনির্বাচনেই যদি অনিয়মের অভিযোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে।
বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বেসরকারিভাবে জয়ী হন। ১৮৫টি কেন্দ্রের সব কটির ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।
এআর