Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

রাত পোহালে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট, সুষ্ঠু না হওয়ার আশঙ্কা বিরোধী দলের

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ইতোমধ্যেই ভোটের নিরপেক্ষ পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণের উপযোগী পরিবেশ আছে কি না, তা নিয়ে তাঁদের অভিযোগ রয়েছে। তবে তারা নির্বাচন করার জন্যই প্রার্থী দিয়েছেন।

ভোটের পরিবেশ খারাপ হলে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী নির্বাচনে থাকবেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তো ইলেকশন করার জন্য প্রার্থী দিয়েছি। ইলেকশন না থাকার জন্য প্রার্থী দিইনি। পরিস্থিতি যদি ভোটের দিনও সেই পর্যায়ে যায়, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

তিনি বলেন, এখনো তাদের অভিযোগ রয়েছে। সেগুলো কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। আগামীকালই হবে বাস্তব পরীক্ষা। ভোটের দিনের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এরপর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, কোনো অভিযোগকেই ছোট করে দেখার পক্ষপাতী নয় আমি। অভিযোগের বিষয়ে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক অবস্থানও নিতে চাই না।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটা অভিযোগ নিয়ে আমার কী বলা যেতে পারে, ডিফেন্সিভও না। প্রত্যেকটা খবরেরই কোনো না কোনো মূল্যায়ন আছে। আমরা আগামীকালকেই প্রমাণ পাব যে কোনটা ঠিক আর কোনটা ত্রুটিপূর্ণ ছিল। কাজেই কাল পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করতেই হবে। নির্বাচন নিয়ে এখনো পর্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো কারণ আমরা পাইনি এবং ইনশাল্লাহ পাবো না।’

ইতিমধ্যে নির্বাচনের সবধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ উপলক্ষ্যে মাঠে অবস্থান নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি।

এ ছাড়া নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ভোটকেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।

ভোটের দায়িত্বে ২১ প্লাটুন বিজিবি, এসআরবি ২৫১ সদস্য, পুলিশ ২২৭২ জন এবং আনসারের ২৪০৫ নিয়োজিত করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৬, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৮৫টি এবং ভোটকক্ষ ৯৮৯টি। 

ভোটগ্রহণে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ১৫২ জন দায়িত্ব পালন করবেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পান ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট।

আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম পান ৩ হাজার ৯৫১ ভোট। বাতিল ভোট ছিল ৭ হাজার ৫৩৭টি। প্রদত্ত ভোটের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসটি থেকে পদত্যাগ করেন। সে অনুযায়ী আসন শূন্য হলে নির্বাচনের তফসিল দেয় কমিশন।

এ নির্বাচনে পোস্টার ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য মোট ২৯৫ জন ভোটার আবেদন করেছিলেন। এদের মধ্যে ২৮৯টি অনুমোদন হয়েছে। বাতিল ছয়টি। ২৯টি আবেদন এসেছে প্রবাস থেকে।

উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন-মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।

এমএইচএইচ/এএম