Dhaka Mail Logo

রাজনীতি / সারাদেশ

চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি ছাত্র-জনতা: ডা. শফিক

জেলা প্রতিনিধি

২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

লুটেরা-চাঁদাবাজদের জন্য দেশের ছাত্র-জনতা চব্বিশের জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘জনগণ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না। আগামীতে প্রত্যেকটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক মেরে দেওয়ার জবাবদিহি করতে হবে।’

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী আয়োজিত ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির। 

ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্ব আমৃত্যু পালন করতে হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত ১৭ বছরে আমাদের ওপর ভিন্ন মাত্রার জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় ১২ জন নেতাকে শতাব্দীর নিকৃষ্ট অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ তারা এক আল্লাহর ওপর অবিচল ঈমান রেখেছিলেন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন বুকে ধারণ করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, জামায়াতে ইসলামী মানুষের আমানত রক্ষা করবে। এই বিশ্বাস একদিনে তৈরি হয়নি। ফ্যাসিবাদী আমলে অসংখ্য নারী-পুরুষকে জীবন দিতে হয়েছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।’

J

জামায়াত আমির বলেন, ‘অতীতের বিভিন্ন ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সাবেক একজন বিচারপতি পালিয়ে সীমান্ত থেকে কলাপাতার ওপর থাকা অবস্থায় আটক হওয়ার মতো ঘটনাও আমাদের শিক্ষা দেয়। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক নষ্ট করার পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যায় করে কেউ পার পাবে না; প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে হবে।’

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম বীরদর্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চট্টগ্রামে প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের এমন আয়োজন আমাকে অভিভূত করেছে। ইসলামী আন্দোলন দুনিয়াবি কোনো স্বার্থ বা ব্যক্তিগত প্রাপ্তির জন্য নয়; বরং আদর্শিক বিশ্বাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই এই আন্দোলন পরিচালিত হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘আমাদের সবার মধ্যে ঈমানের সেই ফুলকি এখনো জাগ্রত রয়েছে। প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সবার উপস্থিতি তারই প্রমাণ। এই সম্মেলন কেবল একটি মিলনমেলা নয়; বরং দেশের প্রয়োজনে ও জাতির সংকটময় মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধভাবে অগ্রণী ভূমিকা পালনের প্রত্যয়। অতীতের আদর্শিক শিক্ষা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন জাাময়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, সাবেক চাকসু ভিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের সভাপতি মুমিনুল হক, দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন এবং ছাত্রনেতা হাসান ইমাম।

প্রতিনিধি/এএইচ