জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। দুই ব্যক্তির বিচারিক প্রক্রিয়ায় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
পোস্টে তিনি লেখেন, সম্প্রতি সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। তাদের প্রবাসজীবনের নানা সমস্যা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।
প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দেশের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার জন্যই বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেট রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ওই দুই ব্যক্তির বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাস কিংবা কনস্যুলেটের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা জানা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য থেকে সঙ্গত কারণেই প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। তারা বলেছেন, দণ্ড কার্যকরের পরে বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিটি দেশ তার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। তবে যেহেতু দণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনই প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিষয়টি মৃত্যুদণ্ডের, তাই এ ক্ষেত্রে দূতাবাস দায়িত্ব পালন করেছে কি না, সরকারকে তা জনগণের কাছে স্পষ্ট করতে হবে।
যে অপরাধে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে, এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সামান্য পরিমাণেও থাকলে তা প্রতিরোধে সরকার বা দূতাবাসের কী উদ্যোগ রয়েছে, সেটিও জানার বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে সরকার ও বাংলাদেশ দূতাবাসকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
ভবিষ্যতে কোনো প্রবাসী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় দূতাবাসের কাছ থেকে তার প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন ডা. শফিকুর রহমান। পাশাপাশি দেশের মর্যাদা রক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন মেনে চলার বিষয়ে প্রবাসীদের সচেতন করাও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে জামায়াত আমির বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার চেয়ে নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করা সবার জন্য উত্তম। যা ভালো, তা-ই বিকশিত হোক।
টিএই/এএইচ