নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও বিএনপি চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে নির্বাচন করতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। দলীয় স্বার্থে তাঁকে প্রার্থী করা হলে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য। তবে দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে তাঁর পক্ষেও কাজ করবেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ইশরাক।
তিনি বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আমি দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করে আসছি। তাই আমি বলেছি, আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি। যদি দল মনে করে যে দলের স্বার্থে আমার নির্বাচন করা প্রয়োজন, তাহলে আমি শতভাগ প্রস্তুত রয়েছি।’
এর আগে নিজের কারণে বিএনপি ও সরকার যেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে বিবেচনায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান ইশরাক। মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে তাঁর অংশ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর ভাষ্য, নিজের কর্মকাণ্ডের কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজ আড়ালে পড়ে যাক, তা তিনি চান না।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়লেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন তিনি। ঢাকা-৬ আসন ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূলসহ জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করার কথা জানান বিএনপির এই নেতা।
মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ভুল করেননি দাবি করে ইশরাক বলেন, নিজের নিরাপত্তার জন্য বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। অভিযানের ভিডিও প্রকাশের পর মূল উদ্দেশ্যের চেয়ে তাঁকে ও অস্ত্রের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর দাবি, গেণ্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর ও মুন্সিরটেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পর পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার এবং কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলেও জানান তিনি।
ইশরাক বলেন, কাউকে নিজের হাতে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। অভিযানের সংবাদ প্রকাশের ধরন নিয়ে হতাশা জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কিছুটা সত্য, কিছুটা অতিরঞ্জন ও কল্পকাহিনির মাধ্যমে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে চলে গেছে।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও মাদক নির্মূলের কার্যক্রম বন্ধ করবেন না বলে জানান তিনি। সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে আরও উদ্দীপনা নিয়ে এ কাজে যুক্ত থাকার কথা বলেন ইশরাক। মাদকের সরবরাহব্যবস্থা চিহ্নিত করে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
এআর