Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

রাড্ডায় ভাঙচুর: অভিযুক্তদের গ্রেফতারে জামায়াত নেতাদের আলটিমেটাম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা-এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের সাত দিনের মধ্যে গ্রেফতারে আলটিমেটাম দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। 

এ সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা সেন্টারের সামনে ঢাকা-১৪ আসনের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এসব কথা বলেন।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখানে কোনো ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক দাবি নিয়ে আসিনি। রাড্ডা হাসপাতাল থেকে আমাদের শত শত মা ও শিশু বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। মানুষের ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্ন রয়েছে। গণমাধ্যমে এসেছে, হামলাকারীদের পেছনে মদদদাতা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধীদের ঢাল হয়ে না দাঁড়ায়।

সেলিম উদ্দিন বলেন, রাড্ডার ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করে লাভ হবে না। এ ঘটনার নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের নাম-পরিচয় জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। সরকার তা করতে ব্যর্থ হলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে।

হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া একটি ওষুধও বাদ দেওয়া যাবে না; সব ফিরিয়ে দিতে হবে। হাসপাতালটিকে অত্যাধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং এর আইনগত কর্তৃত্ব নির্ধারণ করতে হবে। কোনো দালালচক্রের হাতে এ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া যাবে না।

চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ করতে হবে। জনগণ রাস্তায় নেমে এলে আবারও জুলাইয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পুলিশি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হাসপাতালটি ভাঙচুর করা হয়েছে। সেই দৃশ্য তাঁরা দেখেছেন। প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণও তদন্ত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মিরপুরে কোনো চাঁদাবাজ থাকতে পারবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা প্রতিবাদ করবেন। পুলিশের গুলির ভয় দেখিয়ে তাঁদের দমিয়ে রাখা যাবে না।

ঢাকার নাগরিক সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে সেলিম উদ্দিন বলেন, ঢাকার যানজট, জলাবদ্ধতাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে তাঁরা কাজ করবেন। মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে নগরবাসীর সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সঠিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে সরকারের প্রতি সন্দেহের কারণ থাকবে না। কিন্তু কোনো ধরনের তালবাহানা করা হলে সরকারকেও দায়বদ্ধতার আওতায় আনা হবে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার কারণ কী? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, মিরপুরে সুলভ মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠান রাড্ডা হাসপাতাল। শত শত মা ও শিশু এখান থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। অথচ হাসপাতালটি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আরমান বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না বলে তাঁদের আশঙ্কা। প্রশাসন সাত দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে ব্যর্থ হলে এর চেয়েও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিষ্কার কথা, কোনো তালবাহানা চলবে না। গডফাদার পাবেল এবং লেলিন, শুভ্র, রাসেল ও সজীবসহ যারা জড়িত, তাদের সাত দিনের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।’

মানববন্ধনে বক্তারা রাড্ডা-এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, লুট হওয়া ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী ফিরিয়ে দেওয়া, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হামলায় জড়িতদের পাশাপাশি নেপথ্যের মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন, জামায়াত নেতা ডা. মঈন উদ্দিন, মনিরুল ইসলাম মৃধা ও জি এম হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

টিএই/এএইচ