Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

ঢাবিতে নিক্বাব পরিহিত ছাত্রীকে ‘হেনস্তা’, মহিলা জামায়াতের প্রতিবাদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের নিক্বাব পরিহিত এক ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে কটাক্ষ ও ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ এবং ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুব শ্রেণিকক্ষে হিজাব-নিক্বাব পরিহিত এক ছাত্রীকে কটাক্ষ করেন এবং তাকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, নিজ নিজ ধর্মচর্চা করা এবং পোশাক নির্বাচন করা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। অতীতের বুলিং ও ট্যাগিংয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে দেশ এগিয়ে যাওয়ার সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রগতিশীলতার নামে হিজাব-নিক্বাব বিদ্বেষের কোনো সুযোগ নেই।

বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও হিজাববিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তাঁর দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের সব ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির মূলোৎপাটনের প্রত্যাশা তৈরি করলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো সেই সংস্কৃতির ধারক-বাহকরা বহাল রয়েছেন।

নিক্বাব পরিহিত শিক্ষার্থীকে কটাক্ষ করা বা তাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া অত্যন্ত হীন মানসিকতার পরিচয় উল্লেখ করে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষককে তাঁর মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

সহপাঠীর ওপর কথিত এ আচরণের প্রতিবাদে শ্রেণিকক্ষের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, তাঁদের এই অবস্থান সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।

ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

টিএই/এআর