Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না: রিজভী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত ও আগ্রাসী শক্তির কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তি শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করে যাবে।

বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবার পাশে বসার স্মৃতিচারণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবার পাশে বসেছি। তাই আমি অত্যন্ত গর্ব ও আপ্লুত বোধ করেছি। কথা প্রসঙ্গে তিনি আমাকে জানান, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ৯০-এর রাকসু নির্বাচনে আমাকে ভোট দিয়েছিলেন। রাকসু নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়েছিলেন বলেই আমি সহসভাপতি (ভিপি) হতে পেরেছিলাম। কিন্তু আজ যখন একজন বীর শহীদের পিতা নিজে থেকে এসে আমাকে ৯০-এর সেই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কথা বললেন, তখন আমার হৃদয় যে কতটা আবেগ ও উচ্ছ্বাসে ভেসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিগত শাসনামলে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, ভারতকে যা দেওয়া হয়েছে, তা তারা মনে রাখবে। কিন্তু এই নতিস্বীকারের বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদ যে সাহসী ও তীক্ষ্ণ প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন, সেটিই ছিল তার আসল অপরাধ। তাকে হত্যার মাধ্যমে মূলত পুরো জাতিকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, টলস্টয়ের কথা অনুযায়ী, অন্যের বেদনা অনুভব করাই মানবিক অস্তিত্ব। আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছিল এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে জাগিয়ে তুলেছিল। সেই জাগরণেরই চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও ৫ আগস্ট সরকারের পলায়ন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ছাত্রদল রাজপথে বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ধারাকে ধারণ করে তারা কোনো গোপন বা ছদ্মবেশী রাজনীতির আশ্রয় নেয়নি। রাজপথে আঘাত সহ্য করেই তারা নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।

বক্তব্যের শেষে তিনি শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, বাংলায় প্রবাদ আছে—‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচগ্র মেদিনী’। আবরারের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে পুরো জাতি কীভাবে রুখে দাঁড়ায়।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন ও শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ।

এ ছাড়া আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

বিইউ/এআর