Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

গার্মেন্টসের চেয়েও কুটির শিল্পে নারীদের আয়ের সুযোগ বেশি: গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম

গার্মেন্টস খাতের চেয়েও কুটির ও হস্তশিল্পের নারীদের বেশি আয়ের সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রচার ও বিপণন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ঘরে বসেই সম্মানজনক আয় করা সম্ভব। 

বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘শরৎমেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 

সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এদের মধ্যে অনেক নারী ঘরে বসেই কুটির শিল্পের বিভিন্ন কাজ করে আয় করছেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পরিবারেও অর্থনৈতিক অবদান রাখছেন। এতে পরিবার ও সমাজে তাদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের কারিগরদের জন্মগত মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তৈরি দেশীয় পণ্যের মান ও সৌন্দর্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এই দক্ষতাকে কাজে লাগাতে কারিগর ও উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

পণ্য তৈরির পাশাপাশি এসব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর প্রচার ও বিপণন ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। তার মতে, বাজার ও বিপণন সুবিধা বাড়ানো গেলে কুটির শিল্পের পরিধি আরও বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

কুটির শিল্পে আয়ের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রচার ও বিপণন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে গার্মেন্টস খাতের চেয়েও কুটির শিল্প থেকে বেশি আয় করা সম্ভব।

দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, জামালপুরের নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও টেরাকোটার মতো পণ্যের এখনো চাহিদা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের মধ্যেও মানুষ প্রকৃতি ও ঐতিহ্যনির্ভর পণ্যের দিকে ফিরছে। ফলে এসব পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

বৈশ্বিক পরিবেশ দূষণ প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণের বড় একটি অংশ উন্নত বিশ্বের কারণে হলেও উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর ওপর নানা ধরনের শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের দায় ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তব অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

প্রশাসনিক জটিলতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলের আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ফাইলের চাকা ঘোরাতে হবে। অর্থাৎ ফাইল আটকে না রেখে দ্রুত কাজ নিষ্পত্তি করতে হবে। এতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

বিসিক ভবনের নিচতলায় আয়োজিত শরৎমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস নাসের খান ও অতিরিক্ত সচিব নুরুজ্জামান।

আয়োজকরা জানান, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বিসিক ভবনে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। মেলায় শতাধিক স্টলে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।

এসআই