জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ সাত দফা দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া অভিমুখে তৃতীয় দফার লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ‘আগামী ৩১ অক্টোবর শনিবার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া রুটে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।’
বৈঠকে লংমার্চের বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, চট্টগ্রাম ও রংপুরের লংমার্চ দেশবাসীর সহযোগিতায় সফল হয়েছে। এবার ঢাকা থেকে খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া অভিমুখের লংমার্চ সফল করতেও সবার সহযোগিতা চায় ১১ দলীয় ঐক্য।
লংমার্চের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে সরকার সংবিধান সংশোধনের নামে কমিটি করে যে নাটক মঞ্চস্থ করছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। গণভোটের রায় মেনে নিয়ে সংবিধান সংশোধন নয়, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার করতে হবে।’
জুলাই গণহত্যার অনেক অপরাধীর বিচার এখনো হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে বিচার হলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার ও জ্বালানি সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। এসব সংকট নিরসনকে লংমার্চের অন্যতম দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং তাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় বৈঠকে নিন্দা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাতেও নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এখন আবার মিছিলে হামলা-বাধা, মিথ্যা মামলা এবং সেই ফ্যাসিবাদী কায়দা শুরু হয়েছে। সরকার সংকীর্ণ ও নির্লজ্জ দলীয়করণ করছে।’ সরকারি ও আধা সরকারি বিভিন্ন পদে দলীয় লোকদের নিয়োগ এবং নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি, দখল ও চাঁদাবাজি সারা দেশে চলছে। সরকারের সাত মাসে তা বেড়েই চলেছে।’
লংমার্চের কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। সকাল ৮টায় মাওয়া সড়ক হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট ও রূপসা ব্রিজ হয়ে খুলনায় যাবে লংমার্চের বহর। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে বহর।
পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়, খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর ও ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের চাচড়ার মোড় এবং ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হবে।
লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা, পথচারী, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চান গোলাম পরওয়ার। কোনো অপশক্তি উসকানি বা অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলেও কর্মীদের ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাহ হোসেন মিয়াজীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের নেতারা।
টিএই/এএইচ