জেলা প্রতিনিধি
০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহ মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মাজার প্রাঙ্গণে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে কুমারখালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে পুলিশ পাহারায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে কুমারখালী থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছেন কুষ্টিয়া জেলা এনসিপির নেতারা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব তসলিম উদ্দীন নিশাত। তাঁর দাবি, হামলার সময় ছাত্রদলের কোনো নেতা-কর্মী সেখানে ছিলেন না।
ঘটনার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা এনসিপির সদস্যসচিব শোভন আহমেদ। তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন ব্যক্তিগতভাবে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরতে বের হয়েছিলেন। বিকেলে তাঁরা শিলাইদহের কুঠিবাড়ি পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যার পর যান ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে।

শোভন আহমেদের ভাষ্য, আখড়াবাড়িতে বসে গান শোনার পর বের হওয়ার সময় দুজন নারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে ছবি তুলতে চান। ওই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে একজন ডিম ছুড়ে মারেন। এরপর আরও কয়েকজন এসে তাঁকে গালাগাল করেন এবং মারতে উদ্যত হন। তাঁকে রক্ষা করতে নেতা-কর্মীরা ঘিরে ধরেন। হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
শোভন আহমেদ আরও বলেন, দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে পুরো ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁদের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। পরে আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে থাকা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে ইট ছুড়ে কাচ ভেঙে দেওয়া হয়।
কুষ্টিয়া জেলা এনসিপির সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা বলেন, হামলাকারীরা ছাত্রদলের নেতা-কর্মী। তাঁরাই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব তসলিম উদ্দীন নিশাত বলেন, ঘটনার সময় তিনি পাবনায় ছিলেন। পরে তিনি জানতে পেরেছেন, লালন মাজারের গেটে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তারেক রহমান সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ওপর হামলা করেন। সেখানে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী ছিলেন না।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লালন মাজারে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে কোনো একটি ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।
প্রতিনিধি/এআর