নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে তাকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় এই মামলাটি করেন। মামলা নং ৬।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল ১ অক্টোবর সকাল ১০টা ১০ মিনিটে মদিনা থেকে আগত একটি ফ্লাইটের (বিজি-৩৩৮) যাত্রীদের ব্যাপক চাপের কারণে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয় এবং লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। যাত্রীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনার এক পর্যায়ে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি শান্তভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তেড়ে যান এবং নির্বাহী পরিচালককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’ বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। এমনকি তিনি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী সম্পর্কেও চরম অশালীন মন্তব্য করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন মেজর আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভিডিও ধারণে নিষেধ করলে মেজর আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এছাড়া তিনি অন্যান্য সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা পবিত্র জমজমের পানির বোতলও ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন করেন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন প্রতিনিধির সাথে মারমুখী আচরণ করেন।
মামলার বাদী দাবি করেন, এমন কর্মকাণ্ডে একটি স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই ঘটনায় সরকারী কাজে বাধা, হুমকি ও মারধরের অভিযোগে এই মামলাটি করা হয়।
প্রসঙ্গত, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান আলোচিত ও বিতর্কিত একজন রাজনীতিবিদ। তিনি সাবেক এমপি এবং দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সর্বমোট ৫ বার বহিষ্কৃত হন। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের অধীনে তিনি নির্বাচনও করেন। সবশেষ গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
জেবি