জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
এমপিওভুক্তির প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করে শেষ জীবনে শূন্য হাতে বিদায় নেওয়া শিক্ষকদের প্রতি সরকারের মানবিক দৃষ্টি দেওয়া উচিত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্মিলিত নন-এমপিও শিক্ষক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে ক্ষমতায় গেলে নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার কথা বলেছিল। কিন্তু এখন তা করা হচ্ছে না। নন-এমপিও শিক্ষকরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। দীর্ঘদিন শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত থেকে অবসরের সময় খালি হাতে কর্মজীবন শেষ করা অমানবিক।
তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে, সেগুলো দ্রুত এমপিওভুক্ত করা উচিত। শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি জামায়াতের সমর্থন রয়েছে।
একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত যেসব শিক্ষক এখনো ন্যায্য পাওনা পাননি, তাদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
বৈঠকে নন-এমপিও শিক্ষক নেতারা বলেন, অনেক স্কুল ও কলেজ ২৫ থেকে ২৬ বছর ধরে পরিচালিত হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বিনা বেতনে কাজ করছেন। তাদের দাবি, প্রায় সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে।
তারা বলেন, একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে হবে। বিগত বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও যাচাই করে যোগ্যতা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত করার দাবি জানান তারা।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, নন-এমপিও শিক্ষকদের আর্থিক দুরবস্থা দূর করতে সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিচ্ছে না। পরিবার-পরিজনের বঞ্চনা সত্ত্বেও তারা এসব প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরার উদ্যোগের কথাও জানান তারা।
বৈঠকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং সম্মিলিত নন-এমপিও শিক্ষক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
টিএই/এএম