জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
বাটেক্সপোর উদ্বোধন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান ও বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধান অতিথি করার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সৌজন্য ও ভারসাম্যের রীতি এবার ব্যাহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে জাতীয় বাণিজ্যিক এ আয়োজনের নির্দলীয় ঐতিহ্য বদলে যাওয়া কাম্য নয়।
বাটেক্সপো ২০২৬-এর রজতজয়ন্তী উপলক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এ আহ্বান জানান। আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকায় বাটেক্সপোর আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বাটেক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আয়োজনকে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি। পোশাকশিল্পের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে বিভাজনের বদলে বিশ্ব দরবারে ঐক্য ও স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়া প্রয়োজন।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বাটেক্সপোর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধান অতিথি করার একটি রাজনৈতিক সৌজন্য ও ভারসাম্যের রীতি চালু ছিল। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ—এমন বার্তা আন্তর্জাতিক ক্রেতা, কূটনৈতিক মহল ও বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাত এ রীতির মাধ্যমে।
আরও পড়ুন
রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রমাণ: পরওয়ার
বিরোধীদলের ৩৮ প্রস্তাবের একটিও নেয়নি সরকার, অসহযোগিতার অভিযোগ হাস্যকর
তার ভাষ্য, এবারের আয়োজনে দীর্ঘদিনের সেই ভারসাম্যের ব্যত্যয় ঘটেছে। একটি জাতীয় বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে নির্দলীয় ঐতিহ্য বদলে যাওয়া কাম্য নয়। এতে বাটেক্সপোর সর্বজনীন চরিত্রের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমাজের সংহতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বর্তমানে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনসহ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য ও স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়া প্রয়োজন।
বিজিএমইএর সাধারণ সদস্য ও পরিচালকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কোনো ব্যক্তির বিরোধিতা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শিল্পের ঐতিহ্য ও দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার দাবি।
বাটেক্সপোর আয়োজকদের প্রতি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক আয়োজনগুলোতেও গণতান্ত্রিক সৌজন্য ও জাতীয় ঐক্যের সংস্কৃতি বজায় রাখা প্রয়োজন। পোশাকশিল্পের উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থে বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিফলনই প্রত্যাশিত।
টিএই/জেবি