নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
গণ-অভ্যুত্থানের পরও দেশে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা কাটেনি বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, ধর্ষণ, হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে। বড় একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি প্রত্যাশিত ছিল না।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সারা দেশে অত্যাচারের উৎসব চলছে। মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। অথচ একটি বড় গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং রাষ্ট্রে পরিবর্তন আসবে।
‘গতকাল রাতে সালমান মুক্তাদিরের একটি ভিডিও দেখেছি। সেখানে মানুষের স্বপ্ন কীভাবে ধ্বংস হয়ে যায়, তার একটি বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। সালমান মুক্তাদির বলেছেন, তার নিজের সক্ষমতা আছে এবং চাইলে আবারও স্টুডিও তৈরি করতে পারবেন। কিন্তু সেখানে কর্মরত মানুষগুলোর কী হবে?’ দেশের অন্যতম আধুনিক স্টুডিওটি এভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সম্প্রতি একটি বাড়ি ভেঙে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ওই বাড়ির একজন মা বলেছেন, তিনি ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এত বড় গণ-অভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা ছিল কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মান্নার প্রশ্ন, রাষ্ট্র সংস্কার কোথায়? একজন শিশু-কিশোরের জীবনেও যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে সেই পরিবর্তনের অর্থ কী?
নিজ দলের এক নেতার গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তুলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, তার দলের শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সেক্রেটারিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বিষয়টি জানতে তিনি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশ তাকে জানায়, তাদের কাছে কোনো মামলা নেই; আদালতে মামলা হয়েছে। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি। একই সঙ্গে তিন দিন ধরে জজকোর্টও বসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘তারা নিম্ন আদালত দখল করে ফেলেছে। কারা? ওই যে সালমান মুক্তাদির বলেছে না, কারা-তারাই। ওই একই লোক।’
তিনি অভিযোগ করেন, তার দলের সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু মামলার কপি দেওয়া হবে না এবং জজকোর্ট বসবে না-এটা কেমন ব্যবস্থা?
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মান্না বলেন, দেশজুড়ে কীভাবে খুনোখুনি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, তা সবাই জানেন। এর মধ্যেই গড়ে ২০ টাকা করে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সারা বিশ্বে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে কেন বাড়ানো হলো, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। নির্বাচনের পর খাল কাটার যে ব্যাপক আয়োজন দেখা গিয়েছিল, এখন তা আর দেখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, এসব কথা বললেই কেউ কেউ ফোন করে প্রশ্ন করেন, ‘ভাই, আপনি বিএনপির বিরুদ্ধে চলে গেলেন?’
দেড় বছরের মাথায় বিএনপি ব্যর্থ হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি বিএনপির সফলতা চান।
দ্রব্যমূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, দ্রব্যমূল্য কমানো যাচ্ছে না। প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নানা বিষয়ে দোষারোপ করা হলেও তাদের সময়ে তেলের দাম বাড়েনি।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে মান্না বলেন, রাষ্ট্রকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তা গণতান্ত্রিক হয় এবং সংবিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কতটা হয়েছে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ না হলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচারী ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংবিধান পরিষদ গঠনের কথা ছিল।
সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এখন সুপ্রিম কোর্ট চাইলে সংবিধান বাতিল করে দিতে পারে।
বিএনপির উদ্দেশ্যে মান্না বলেন, ‘গায়ের জোরে কিছু না করা ভালো।’ পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে কাজ করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে কাজ করার কথা বলা হয়েছিল। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারি শহিদুল্লাহ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিল্লুর চৌধুরী দীপু ও দেলোয়ার হোসেন রাজা।
এম/এমআর