নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম।
তিনি বলেন, দখলবাজির পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশে সরকার আছে কি না, এমন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। সরকার থাকলেও তা সাধারণ মানুষের বদলে দখলবাজদের পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন হাসনাত কাইয়ূম। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন।
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, “দখলবাজির চূড়ান্তপনায় মনে হয় যেন হয় দেশে কোনো সরকার নাই অথবা সরকার আছে কেবল দখলবাজদের পক্ষে। সাধারণ মানুষের পক্ষে না।”
স্বল্প আয়ের মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, যেখানে দিনের পর দিন স্বল্প আয়ের মা ও শিশুরা চিকিৎসা ও টিকা নিতে আসত, সেই জায়গাটাকে রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো, অথচ প্রশাসনের কোনো কার্যকর ভূমিকা আমরা দেখিনি।”
ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখছেন না বলেও জানান রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি। ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওসহ কয়েকটি স্থাপনায় আগের দিন হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের প্রসঙ্গ টানেন তিনি।
হাসনাত কাইয়ূম অভিযোগ করেন, “পরপর এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, রাজধানীতেই দখলবাজ চক্র বেপরোয়াভাবে সক্রিয়, আর সরকার, প্রশাসন তাদের ফ্যাসিলিটেট করছেন।”
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে তার নিষ্পত্তি আদালতে হওয়ার কথা। কিন্তু রাতের অন্ধকারে দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং তা ঠেকাতে পুলিশের ব্যর্থতা আইনের শাসন নিয়েই প্রশ্ন তৈরি করছে।
তিনি বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে, তার সমাধান হওয়ার কথা আদালতে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া আর তা প্রতিরোধে পুলিশের ব্যর্থতা দেখে মনে হয়, এই রাষ্ট্রে আইন, কানুন, প্রশাসন, সরকার বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই।”
পরিদর্শন শেষে সাম্প্রতিক দখল, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ চারটি দাবি জানিয়েছে জেএসডি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। একই সঙ্গে পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
দল দুটি বলেছে, রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত বিরোধ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়, আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দ্রুত কার্যক্রম চালু করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
পরিদর্শনে জেএসডি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ/এএস