Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

ঢাকায় কোনো বাঁশের সেতু থাকবে না: মীর শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

ঢাকা শহরে কোনো বাঁশের সেতু থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় থাকা বাঁশের সেতুগুলো পর্যায়ক্রমে আরসিসি সেতুতে রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে খাল দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অবৈধভাবে নির্মিত সেতুর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ত্রিমোহনী খাল ব্রিজে খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জিরানি খাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এদিনের কর্মসূচিতে ঢাকার পাঁচ নদী ও দুই সিটি করপোরেশনের ৫৫টি খাল সচল করার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।

মীর শাহে আলম বলেন, মূলত ঢাকাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে চিন্তা, তারই অংশ হিসেবে ঢাকার চারপাশের পাঁচটি নদী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, নদীর পাড় সংরক্ষণ, গাইডওয়াল ও রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ এবং বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদীগুলোকে ৪০ থেকে ৫০ বছর আগের মতো সচল করে নৌযান চলাচলের উপযোগী করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি খাল পরিষ্কার করে পানিপ্রবাহ সচল করা হবে। খালের দুই পাশে গাইডওয়াল, রিটার্নিং ওয়াল, ওয়াকওয়ে ও নেটিংয়ের মাধ্যমে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে খালগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার স্যুয়ারেজ লাইনগুলো শহরের বাইরে নিয়ে দাসেরকান্দি, পাগলা, মিরপুর, উত্তরা ও রায়েরবাজার-মাদানীসহ নির্ধারিত স্থানে শোধনাগারের মাধ্যমে পরিশোধন করে নদীতে পরিষ্কার পানি ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গঠিত কমিটি গত তিন মাস ধরে কাজ করছে। কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাত থেকে আটটি বৈঠক করে ঢাকাকে কীভাবে সুন্দর ও বাসযোগ্য করা যায়, সে বিষয়ে প্রতিবেদন ও চিত্র উপস্থাপন করেছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলো স্টিমার বা ফেরিতে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় কাজও চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া ও অনুমোদনের কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে মান্ডা, জিরানি, কালুনগর ও শ্যামপুর খালের কাজ পরিদর্শন করা হয়েছে।

বাঁশের সেতু প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই খালগুলোর চলমান কাজ দৃশ্যমান পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে মানুষের ব্যবহার ও জলাবদ্ধতা নিরসনের উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। ত্রিমোহনী এলাকার বাঁশের সেতুটিও অল্পদিনের মধ্যে আরসিসি সেতুতে রূপান্তর করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঢাকায় কোনো বাঁশের সেতু থাকবে না। তবে অবৈধভাবে নির্মিত সেতু ও খাল দখল করে করা স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বছর সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু সরকার একা এ কাজ করতে পারবে না, জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকেরা মানুষের ভোটের চিন্তা না করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং নগর পরিষ্কার রাখার জন্য কাজ করছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে।

মীর শাহে আলম আরও বলেন, সরকার বেহেশতের গ্যারান্টি দেবে না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দেবে। রাস্তাঘাট ঠিক হবে, খাল সচল হবে, স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা উন্নত করে দুর্গন্ধমুক্ত ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা হবে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাস হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যাগুলো সমাধানের দিকে যাচ্ছে। যেখানে সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে, সেখানে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে। জনগণের দেওয়া দায়িত্বকে সম্মান করে আগামী পাঁচ বছর মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, ঢাকা মহানগরে প্রায় তিন কোটি মানুষের বাস। এখানে স্বাস্থ্যঝুঁকিও অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করতে যা যা প্রয়োজন, তা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, একদিকে নদী, খাল ও জলাশয়ের দুই পাড় গাইডওয়াল দিয়ে বাঁধাই করা হবে, অন্যদিকে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হবে। নদীতে ময়লা-আবর্জনা যাতে ফেলা না হয়, সে ব্যবস্থাও করা হবে। এসব বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শোধন করা হবে।

ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, গত ১৫ বছর ধরে খালগুলো অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। যারা দখল করেছে, তাদের পরিচয় শুধু অবৈধ দখলদার। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। খালগুলো দখলমুক্ত করে এ এলাকার উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা-৯-এর মানুষের কাছে এবং প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাঁশের সাঁকোগুলোও আরসিসি সেতুতে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এআর