নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
সাইবার সুরক্ষা আইন দিয়ে সরকার বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষেত্রে সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে সভাপতিত্ব করেন লেখক ও প্রবীণ সাংবাদিক আবুল আসাদ।
নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রণীত ২০২৫ সালের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ সংসদে পাস হয়েছে। তবে সরকার নতুন করে সাইবার সুরক্ষা আইন সংসদে পাস করানোর উদ্যোগ নিয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যই সরকার তড়িঘড়ি করে আইনটি সংসদে আনতে চাইছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো কনটেন্ট ব্লক করা হলে স্বচ্ছতার স্বার্থে সরকারকে তার কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে—বিদ্যমান বিধানে এমন কথা থাকলেও সংসদে উত্থাপিত বিলে তা রাখা হচ্ছে না। ফলে কোনো কনটেন্ট ব্লক করা হলে ভুক্তভোগীর পক্ষে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন হবে।
নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বিদ্যমান আইনে কোনো কনটেন্ট ব্লক করা হলে তিন দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল অনুমতি না দিলে ওই কনটেন্ট উন্মুক্ত করে দিতে হবে। কিন্তু সংসদীয় বিলে এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দিয়ে আদালতে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তি করলেও কনটেন্ট আবার উন্মুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে বিষয়টি সরকারের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করবে।
তিনি আরও বলেন, আইনের এমন বিধান সরকারের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ ও স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে। সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো গণমাধ্যমের কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ কিংবা ইউটিউবারের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে—এমন আশঙ্কার ভিত্তিতে তাকে আটক করা বা তার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা আইনসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে না।

নুরুল ইসলাম বুলবুল আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু অপরাধের বিষয়গুলো স্পষ্ট না করে সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে আটক করা বা তার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রাখা হলে তা আইনের অপব্যবহারের পথ তৈরি করবে।
প্রস্তাবিত আইনের ৬ ধারার একটি উপধারায় ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মানহানির বিষয়টি যুক্ত করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মানহানি বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। আইনে মানহানির যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা মূলত ব্যক্তির মানহানিকে বোঝায়। রাষ্ট্রের মানহানির বিষয়টি অস্পষ্ট থাকায় এ বিধানের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
নুরুল ইসলাম বুলবুল আরও বলেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয়েছে। এখন আবার বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলে স্বাধীন গণমাধ্যমের পক্ষে সরকারের ভুলত্রুটি, দুর্বলতা ও অনিয়ম জনসমক্ষে তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়বে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীনভাবে কাজ করার যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, নতুন আইনটি সেই সুযোগ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
এএইচ/এএস