বোরহান উদ্দিন
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে পৌঁছাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই ঐতিহাসিক আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বাত্মক সংবর্ধনার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের আড্ডা রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’-এ বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন বিমানবন্দরের গণসংবর্ধনাসহ সার্বিক প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
বিমানবন্দরে সুসংগঠিত সংবর্ধনার পরিকল্পনা
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, বিমানবন্দরে লাখো প্রবাসীর সমাগম ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ ও সুশৃঙ্খল ভালোবাসা জানানোই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে অত্যন্ত সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবর্ধনা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য নেতাকর্মীদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্বমঞ্চে বিরল ইতিহাস, বাবা-মায়ের পর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন সন্তান
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই সফর প্রবাসীদের জন্য চরম আনন্দের। জাতিসংঘের ইতিহাসে একই পরিবারের ‘বাবা, মা এবং সন্তান’—তিনজনেরই রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণের এই নজিরকে বিরল হিসেবে আখ্যা দেন তারা।
এর আগে তার বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন।
৪০ বছর পর জাতিসংঘে বাংলাদেশি সভাপতি
নেতৃবৃন্দ জানান, দীর্ঘ ৪০ বছর পর আবারও একজন বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। এটি বিশ্বের ১৯৩টি দেশের সামনে বাংলাদেশের মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
এসময় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং ৩০ হাজারের বেশি আহতের আরোগ্য কামনা করা হয়।
জাতিসংঘের রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৪ শতাধিক প্রাণহানির জন্য পতিত স্বৈরাচারকে দায়ী করে নেতৃবৃন্দ জানান, ফ্যাসিবাদ পতনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু হওয়া দেশ পুনর্গঠনে প্রবাসীরা একাত্ম হয়ে কাজ করবেন।
চলতি বছরই প্রবাসী কার্ড
প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও মেধাকে মূল্যায়নে কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি চলতি বছরের মধ্যেই নানামুখী সুবিধাসম্বলিত ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক নাহিদুল খান সাহেল, কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমেদ, মিজানুর রহমান মিল্টন ভূঁইয়া, নিউইয়র্ক দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সিনিয়র নেতা শরাফত হোসেন বাবু ও মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল প্রমুখ।
বিইউ/এএস