জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
রাত পোহালেই রংপুরের পথে নামছে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ। সহস্রাধিক গাড়ির বহর নিয়ে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে রংপুর অভিমুখে যাত্রার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জোটটি। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সমাবেশ ও পথসভার প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে লংমার্চের আনুষ্ঠানিকতা। সকাল ৮টায় টঙ্গী-গাজীপুর-টাঙ্গাইল হয়ে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে বহর। পথে ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন এলাকায় সাতটি জনসভা ও পাঁচটি পথসভা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে নেতারা জানান, লংমার্চকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
জোটের নেতারা বলেন, এত বড় কর্মসূচিতে সহস্রাধিক গাড়ি ও বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের কারণে সড়কে যান চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। এ জন্য আগাম দুঃখ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদেরও সংযম বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের উসকানি বা বাধার মুখে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সফল করার ওপর জোর দিয়েছেন ১১ দলের নেতারা। তাদের বক্তব্য, কোনো ক্ষতি বা আঘাতের ঘটনা ঘটলেও তার প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবর্তে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।
লংমার্চের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মী, ইসলামী ছাত্রশিবির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সমন্বয় করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে সংশ্লিষ্ট শাখার নেতাদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকও হয়েছে। সেখানে স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মসূচিতে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ার কথা জানান জোটের নেতারা।
রংপুর অভিমুখী এই লংমার্চে মোট আট দফা দাবি তুলে ধরছে ১১ দলীয় ঐক্য। এর মধ্যে চট্টগ্রাম অভিমুখী আগের লংমার্চের ছয় দফার সঙ্গে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধের দাবি যুক্ত করা হয়েছে। পরে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টিও লংমার্চের দাবির সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
জোটের নেতারা জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিটি উত্তরবঙ্গের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও কৃষির সঙ্গে যুক্ত এই দাবিকে সামনে রেখে সরকারকে দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
লংমার্চের বহর শনিবার সকাল ৮টায় মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে যাত্রা শুরু করে টঙ্গী, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল হয়ে নির্ধারিত পথসভার পয়েন্টগুলো অতিক্রম করবে। এরপর সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা হয়ে রংপুরের দিকে এগিয়ে যাবে।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জানান, লংমার্চের প্রস্তুতিতে গত কয়েকদিনে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম অভিমুখী আগের কর্মসূচির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারও শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
টিএই/এমএইচআর