Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

ইসিকে দলীয়করণের ফল কখনোই ভালো হবে না: সাদিক কায়েম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশে সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মেয়র প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। কমিশনকে নিয়ন্ত্রণের ফল কখনোই ভালো হবে না।

মঙ্গলবার ( ১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম। পোস্টে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সরকারের তালবাহানা ও সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়েছে। সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাত ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানান। প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসির দেওয়া তারিখ চূড়ান্ত নয়।

সাদিক কায়েমের দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যেও সরকারের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে বোঝা যায়, সরকার নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তারিখ মানছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকারকে সুযোগ করে দিতে নিজেদের সুবিধামতো নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে একটি তারিখ ঘোষণা করানো হচ্ছে। ফলে জনগণের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট যে সরকার নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে।

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, সরকার একদিকে দেশ পরিচালনায় সীমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও জুলুমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন ও জনগণের রায়কে ভয় পাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকারের সব স্তরে, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদেও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে সরকার কুখ্যাত স্বৈরাচার আইয়ুবশাহীর পথ অনুসরণ করছে।

নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন দেশের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করে দেশে সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় না। এর উদাহরণ গত স্বৈরাচার সরকার।

সাদিক কায়েম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে বিএনপিও স্বৈরাচার আমলের মতো দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করে ‘কন্ট্রোলড ডেমোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ ও নিয়ন্ত্রণের ফল কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।

টিএই/এআর