Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

ইসির স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি এনসিপির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলেছে, সরকারের প্রভাব ও হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত হয়ে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সাতটি ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, এ বিষয়ে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এরপর নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘শিরোধার্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। এনসিপির মতে, এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

দলটির নেতারা বলেন, একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও অবস্থান থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘শিরোধার্য’ হিসেবে মেনে নেওয়া প্রমাণ করে, কমিশন সংবিধান প্রদত্ত স্বাধীন ভূমিকা পালনে সক্ষম হচ্ছে না। সরকারের চাপ ও প্রভাবে কমিশন একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ন্যূনতম নিশ্চয়তাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্বাচিত হয়ে আসার পর বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে দলীয়করণের দিকে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন পরিচালনার চেষ্টা ক্ষমতার লালসা ও অগণতান্ত্রিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ। দলের নির্বাচনী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একজনকে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবাধীন করার প্রচেষ্টা বলে দাবি করেছে এনসিপি।

এনসিপি বলেছে, নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে সরকারি প্রভাব ও হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাহী বিভাগের সামনে নতি স্বীকার করে কমিশনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্বাহী বিভাগের অবৈধ প্রভাব ও অগণতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

দলটির নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন করে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কোনো ‘মেরুদণ্ডহীন’ বা সরকারি ক্যাডারতন্ত্রের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন জনগণ মেনে নেবে না। সরকার যদি নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না দেয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের ইচ্ছামতো পরিচালনার পথে এগোয়, তাহলে এনসিপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলবে।

টিএই/এআর