জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
বিদেশে পলাতক মহাবিতর্কিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান)।
একইসঙ্গে বেনজীরের বিদেশে যাওয়া এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যর্থতা বা আইনি ত্রুটি ছিল কি না, তা সংসদকে জানানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এসব দাবি উত্থাপন করেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য।
প্রস্তাব উত্থাপনের আগে দেওয়া বক্তব্যে আরমান বলেন, গুমের ভুক্তভোগী পরিবার, শহীদ পরিবার এবং দীর্ঘদিনের নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করার সুযোগ পাওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ তুলে ব্যারিস্টার আরমান বলেন, ‘বেনজীর র্যাবের মহাপরিচালক এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফ্যাসিবাদকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে যারা ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাজ করেছেন, তিনি তাদের অন্যতম।’
তবে বক্তব্য দেওয়ার আগে স্পিকার ব্যারিস্টার আরমানকে বক্তব্য না দিয়ে শুধু নোটিশটি পড়ার নির্দেশ দেন। পরে মীর আহমদ তার প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরেন।
প্রস্তাবে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, অর্থপাচার ও দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়ার পর গত ১৪ জুন কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগির তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
মীর আহমদের দাবি, ওই প্রতিশ্রুতির পরও বেনজীর জামিনে মুক্তি পেয়ে পরে সেন্ট লুসিয়ায় যাওয়ার ঘটনা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় গুরুতর ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।
এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চার দফা দাবি জানান তিনি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তন অনুরোধ পাঠানোসহ বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে নেওয়া সব পদক্ষেপের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংসদে দাখিল করা।
এছাড়া পাঠানো নথিপত্রে কোনো আইনি বা পদ্ধতিগত ত্রুটি ছিল কি না এবং থাকলে ওই ত্রুটির জন্য দায়ী কে, তা চিহ্নিত করে সংসদকে জানাতে বলেন তিনি।
সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় বেনজীর আহমেদ কীভাবে একাধিক দেশের পাসপোর্ট অর্জন করেছেন, সে বিষয়ে কোনো তদন্ত চলছে কি না এবং তদন্ত চললে তার অগ্রগতিও সংসদকে অবহিত করার দাবি জানান মীর আহমদ।
চতুর্থ দাবিতে তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদকে সেন্ট লুসিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দেশে-বিদেশে থাকা তার অবৈধ সম্পদ জব্দের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, থাকলে তা বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে সংসদকে অবিলম্বে বিস্তারিত জানাতে হবে।
মীর আহমদ আরও বলেন, জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের আদালত বেনজীরকে জামিন দেন। ৩০ জুলাই তিনি মুক্তি পান এবং ১৭ আগস্ট দুবাই ছেড়ে সেন্ট লুসিয়ায় যান।
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বেনজীরের বিরুদ্ধে ১০টি তদন্ত মামলা এবং তিনটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার, গুমের শিকার পরিবার এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশী জনগণের স্বার্থে বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার আবেদন জানান ঢাকা-১৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।
টিএই/এএইচ