জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
নির্বাচনি এলাকায় তৈরি করা ভীতিকর ও সন্ত্রস্ত পরিবেশের কারণে জনপ্রতিনিধিরা স্বাভাবিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন রাজশাহী-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান।
সরকারি দলের ক্যাডারদের সন্ত্রাসের ভয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারাও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিশেষ অধিকার প্রশ্নের কার্যপ্রণালি বিধির ১৬৪ বিধিতে দেওয়া দুটি পৃথক লিখিত নোটিশে এসব অভিযোগ করেন মুজিবুর রহমান।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনের বৈঠক শুরু হয়।
সংসদে ডেপুটি স্পিকারের তুলে ধরা বিবরণ অনুযায়ী, প্রথম নোটিশে মুজিবুর রহমান জানান, দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে তার নির্বাচনি এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য দেওয়া প্রায় শতাধিক ডিও লেটার সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। তার সুপারিশের পরিবর্তে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের মাধ্যমে এসব কাজ বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে সংরক্ষিত নারী এমপির সবুজ সংকেত ও ডিও লেটার ছাড়া নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ডিও লেটার বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করেন মুজিবুর রহমান।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দলের ক্যাডারদের সন্ত্রাসের ভয়ে কোনো কর্মকর্তা টু শব্দ পর্যন্ত করতে সাহস পাচ্ছেন না।’ চারদিকে এমন ভীতিকর ও সন্ত্রস্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যে সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পক্ষে নিজ নিজ এলাকায় স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দ্বিতীয় নোটিশে মুজিবুর রহমান জানান, প্রচলিত নিয়ম ও সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিয়োগের জন্য নিজস্ব প্যাডে সুপারিশপত্র দিয়েছেন।
এর ধারাবাহিকতায় রাজশাহী-১ আসনের গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার প্রায় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি মনোনয়নের জন্য ডিও লেটার জমা দেওয়া হলেও স্থানীয় সন্ত্রাসী প্রভাবের কারণে এখন পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠানেও তার সুপারিশ অনুযায়ী সভাপতি নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
নোটিশ দুটির বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দুটি নোটিশের মূল বিষয়বস্তু প্রায় একই ধরনের। সংসদীয় এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া প্রতিটি জনপ্রতিনিধির মূল লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত উভয় আসনের সংসদ সদস্যেরই ভূমিকা রাখার সমান অধিকার রয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদীয় এলাকার দুজন সদস্যই যেন উন্নয়নে সমান ভূমিকা রাখতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সচেষ্ট থাকতে হবে। একই এলাকায় এক জনপ্রতিনিধিকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে অন্যজনকে গুরুত্বহীন করে তোলা যাতে না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে হবে।
তবে সার্বিক বিষয়টি সংসদের সরাসরি হস্তক্ষেপের উপযোগী নয় উল্লেখ করে মুজিবুর রহমানের দুটি নোটিশই শেষ পর্যন্ত বাতিল ঘোষণা করা হয়। কার্যপ্রণালি বিধির ১৬৫ উপবিধি (৪) অনুযায়ী নোটিশ দুটি বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্নের প্রশ্ন হিসেবে গ্রহণ করা গেল না জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন ডেপুটি স্পিকার।
টিএই/এএইচ