উপজেলা প্রতিনিধি
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। আমার বড় আপসোস হয়, দুঃখ হয় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সন্তানের জন্য। তিনিও শেখ হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিপজ্জনক পথের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দেবেন ভালো কথা। কিন্তু জনগণের অধিকার হরণ করে নয়। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ যে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে, তা ভেঙে দিয়ে সমস্যার সমাধান করুন। যদি ব্যর্থ হন, মনে রাখবেন শেখ হাসিনা উন্নয়নের গণতন্ত্রের গল্প শুনিয়ে শেষ রেহাই পায় নাই।’
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মিরসরাইয়ে পৌর সদরে লংমার্চের পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মামুনুল হক।
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ ঝাড়–পিঠা দিয়ে দেশের সীমানার বাইরে ফেলে দিয়ে আসছে। মানুষের পকেটে আর একটা কার্ড আছে মনে রাখবেন, সেটা হলো লাল কার্ড। আমরা সরকার পতনের জন্য লং মার্চ করছি না; সরকারকে সতর্ক করার জন্য করছি।’
মামুনুল হক বলেন, ‘৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দিয়েছে। আপনারা ৫০ শতাংশ ভোট তাও ম্যাকানিজমে নিয়ে ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটকে অবৈধ ঘোষণা করছেন। আপনাকে কে দুঃসাহস দিয়েছে। জনগণের রায় অস্বীকার করা হলে জনগণকে অসম্মান করা হয়। ভালোই ভালোই সংস্কার করেন। গণভোট যদি অবৈধ হয়ে থাকে, গণভোটের আদেশ যদি অবৈধ হয়ে থাকে, তাহলে আপনার সরকারও অবৈধ, সংসদও অবৈধ, মন্ত্রিপরিষদও অবৈধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, গণভোট অবৈধ হলে অপর নির্বাচনটি বৈধ হতে পারে না। সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের ভোটও অবৈধ। তারা বাংলাদেশের মানুষকে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা করছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে বিএনপিকে চূড়ান্তভাবে লাল কার্ড দেখানো হবে।’
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে ও মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমির নুরুল কবিরের সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা গ্যাস চান, বিদ্যুৎ চান, পানি চান, শান্তি শৃঙ্খলা বজায় চান, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চান, বিডিআর হত্যার বিচার চান, জুলাই গণহত্যার বিচার চান; এই সরকার কি এগুলো বাস্তবায়ন করবে বিশ্বাস করেন।
এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের ‘না’ জবাব শুনে সবাইকে প্রস্তুত হতে বলেন। তিনি বলেন, ‘নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আমাদের এখন চোখ রাঙানো হয়। এসব চোখ রাঙানো আমরা ভয় করি না। প্রস্তুত থাকুন, চূড়ান্ত ডাক এলে আবার বের হতে হবে।’
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেনারেল সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরোয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) সদস্যসচিব আকতার হোসেন এমপি, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিমসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে হটাতে ৯ দফা থেকে এক দফা দাবি দিয়েছিলাম। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আমাদের ৬ দফা দাবি যদি মেনে না নেন সেটিও এক দফায় পরিণত হবে।’
ওসমান হাদির বিচার চেয়ে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির বিচার যতদিন না হবে ততদিন মাঠ ছাড়ব না আমরা। জুলাই গণহত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের মাঠ ছাড়ব না।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যে তরুণ ভাইদের আপনি চাকরি দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাদের প্রত্যেকের চাকরি নিশ্চিত না হলে আমরা আপনার সদর দরজায় উপস্থিাত হয়ে জবাব চাইব। হয় চাকরি দিবেন না হয় গদি ছাড়বেন।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বিরোধী দলীয় চীপ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিভিন্ন শ্লোগান দেন এবং নেতাকর্মীরা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
এএইচ