Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

‘গুপ্তদের’ ভেতর স্বৈরাচার লুকিয়ে আছে কি না, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

দেশের চলমান বিভিন্ন সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে স্বৈরাচারের সময়ে ‘গুপ্ত’ অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের কেউ এখনো স্বৈরাচারকে আড়াল করে অস্থিতিশীলতা উসকে দিচ্ছেন কি না—সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, গত কিছুদিন ধরে সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। স্বৈরাচারের সময়ের সমস্যা হোক কিংবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যা—সব ক্ষেত্রেই সংকট রয়েছে এবং সরকার তা অস্বীকার করছে না।

আরও পড়ুন

জ্বালানি সংকটে জনগণের দুর্ভোগে দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব সমস্যাকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা তৈরিরও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‘গুপ্তদের ভেতর স্বৈরাচার লুকিয়ে আছে কি না’

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারের সময়ে একটি রাজনৈতিক দল ‘গুপ্ত বেশ’ ধারণ করে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল বলে তারা দেখেছেন। পরবর্তী সময়ে ওই দলের নিজেদের লোকজনই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

Tarequ2

তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এই বিভ্রান্তির সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যে স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, তাদের কেউ আবার অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তিনি প্রশ্ন করেন, স্বৈরাচারের সময় যে গুপ্তরা স্বৈরাচারের আড়ালে লুকিয়ে ছিল, এখন কি সেই গুপ্তদের ভেতর স্বৈরাচার লুকিয়ে থেকে এই অরাজকতা উসকে দিতে চাইছে? তাই যদি হয়, তাহলে বলতে হবে যারা গুপ্ত, তারা সেই স্বৈরাচারকেই আবার সামনে নিয়ে আসার কাজ করছে।

সম্প্রতি ‘গুপ্তদের’ একজন নেতা তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন—এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির সকল নেতাকর্মীকে আহ্বান করব, আসুন আমরা জনগণকে আরও সচেতন করি। কে কাকে মুক্ত করার দায়িত্ব নিচ্ছে, সেটি জনগণের সামনে আমরা উন্মুক্ত করে দিই।

দলের প্রধান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়েছে। ১৯৭১, ১৯৮৬, ১৯৯৬ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনায় এ ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এখন তাদের সেই রাজনীতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

Tareque4

‘অরাজকতা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা’

চলমান সংকটকে কেন্দ্র করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখব এবং গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতা সর্বোচ্চভাবে অনুসরণ করার চেষ্টা করব। কিন্তু কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, দেশের আইনেই বলা আছে কীভাবে অরাজকতা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, সরকার হিসেবে নয়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবেই প্রত্যেকের নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

‘ভবিষ্যতে যেন জ্বালানি সংকট না হয়, সে ব্যাপারে জোর দেওয়া হচ্ছে’

আলোচনা সভায় দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভঙ্গুর অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি জ্বালানি সংকটও উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে।

Tareque3

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষ এবং শিল্প-কারখানার মালিকদের দুর্ভোগের জন্য দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সংকট সমাধানে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগলেও ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সংকট তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

দলের ভারপ্রাপ্ত মহসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুব সাধারণ সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান,ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিনের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান,এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিইউ/জেবি