জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেই ঘরে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমেছি। আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেই ঘরে ফিরবো ইনশা আল্লাহ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের লংমার্চ ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। আমাদের দাবি স্পষ্ট। জনগণ গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ সংকট, পানি সংকটে ভুগছে। কিন্তু তারপরও জনগণকে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এদেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, এ লংমার্চ আপামর জনতার। সরকার যদি লংমার্চে বাধা দেয় তাহলে সব বাধা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে এবং ১১ দলের ৬ দফা দাবি এক দফা রূপ নেবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতার মসনদে বসে যদি জাতিকে ভুলপথে পরিচালিত করার চেষ্টা করে তাহলে টেনে নামাতে আমাদের হাত এক চুলও কাঁপবে না।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যর্থ হয়েছে। দিনে দিনে দুর্ভোগ বাড়ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জনগণকে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সরকারকে সংসদে ভুল স্বীকার করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই লংমার্চের আয়োজন করেছে।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শাপলা চত্বরে সকাল ৭টায় উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ যাত্রা শুরু করে। লংমার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাইয়ে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। লংমার্চের শেষ গন্তব্য চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
টিএই/এএস