Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার সবার: রাশেদ খান

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন অসাম্প্রদায়িক নেতা বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় রয়েছে, যেখানে ধর্ম যার যার, কিন্তু নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার সবার।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ  কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সমানভাবে ধারণ করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ধর্মীয় পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার না হন, সেটিই সবার প্রত্যাশা।

শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষের প্রকৃত পরিচয় বংশপরিচয়ে নয়, কর্মের মধ্য দিয়েই তার মর্যাদা ও অবস্থান নির্ধারিত হয়। শ্রীকৃষ্ণ সমাজের বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তার আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

অসাম্প্রদায়িক চেতনার আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, সব ধর্মের মূল শিক্ষা শান্তি, শৃঙ্খলা, মানবতা ও সম্প্রীতি। অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে আর কোনো বিশ্বজিৎ যেন এ ধরনের নৃশংসতার শিকার না হন, সে জন্য সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করাই লক্ষ্য। একটি অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই অভীষ্ট। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।

জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে উপাচার্য বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আচার-অনুষ্ঠান ভিন্ন হলেও শান্তি, মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য অভিন্ন। শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন থেকে শান্তি, সম্প্রীতি, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার শিক্ষা পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র হওয়া উচিত, যেখানে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবেন এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে ভিন্নমতের মানুষও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ পাবেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক, মানবিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এগিয়ে নিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান উপাচার্য।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল। তিনি জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসএইচ/এআরএম