জেলা প্রতিনিধি
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
# দেড় দশক ধরে অস্থায়ী কার্যালয়ে চলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড
# ক্ষমতায় বসার ৬ মাসেও ব্যবস্থা হয়নি স্থায়ী কার্যালয়ের
দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় বাসাবাড়িতে চলতো দলীয় কার্যক্রম। জাতীয় ও দলীয় দিবসও পালিত হতো নিরবে-নিভৃতে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও দলটির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিজ জেলা ফেনীতেই এখনো স্থায়ী ঠিকানা পাননি নেতাকর্মীরা।
এ নিয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। অবশ্য জেলা নেতারা বলছেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও মূল ক্ষমতায় রয়েছেন মন্ত্রী-এমপিরা। ফলে যাদের শ্রমঘামে তারা মন্ত্রী হয়েছেন, তাদের জন্য ঠিকানা (অফিস) তৈরির দায়িত্বও তাদের।
বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালের দিকে জেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি প্রয়াত আবুল হাশেম ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন ফেরদৌস শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে দলীয় কার্যালয় তৈরি করেন।
পরবর্তীতে সভাপতি মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ও অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর কার্যালয়টি বহাল থাকে। এখান থেকেই পরিচালিত হতো দলীয় কার্যক্রম। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মুখর থাকতো শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি।
এরপর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতা হারানোর পর জায়গার মালিকানা জটিলতায় ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলে কার্যালয়টি ভেঙে ফেলা হয়। ২০১০ সালে মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দার সভাপতি ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ার পর বদলে যায় দলীয় কার্যালয়।
২০১৯ সাল পর্যন্ত ‘দলীয় ঠিকানা’ হয়ে উঠে জিয়াউদ্দিন আহমেদের ইসলামপুর রোডের ব্যক্তিগত কার্যালয়। ২০১৯ সালে শেখ ফরিদ বাহারকে আহ্বায়ক ও আলাল উদ্দিন আলালকে সদস্যসচিব করে নতুন কমিটি গঠনের পর আবারও দলীয় কার্যালয়ের ঠিকানা বদল হয়। কয়েক বছর তাকিয়া রোডের নাদিয়া হোটেল আর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুলের বাসা হয়ে ওঠে নেতাকর্মীদের ঠিকানা। একপর্যায়ে ইসলামপুর রোডের দ্বিতল ভবনের একটি কক্ষকে অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ওই কার্যালয়টি আর ব্যবহার হয় না। ভাষা শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টার, হোটেল মিডটাউনসহ ব্যক্তিগত কার্যালয় কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের সময় দেন শীর্ষ নেতারা।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, এই চিত্র শুধু বিএনপির নয়, সহযোগী সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলেরও। শহরের খাজুরিয়া এলাকার রিলেশন কনভেনশন হলের ভবনের একটি কক্ষে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকারের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পরিচালিত হয় যুবদলের কার্যক্রম। রেলস্টেশন সংলগ্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আমিন আফরোজ ট্রেডিংয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে সময় কাটান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল। শহরের ডাক্তারপাড়া এলাকার হোটেল মিডটাউনে বসেন ছাত্রদল সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার জানান, ‘একসময় ট্রাংক রোডের ভোজন বিলাসের পেছনে একটা পার্টির অফিস ছিল। পরবর্তীতে কায়সার সড়কের জায়গাটি দিয়েছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য বেলাল মিল্লাত শহীদুল্লা। সেখানে আমাদের অনেক স্মৃতি। পার্টি অফিস অবশ্যই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু, সবার সম্মিলিত জাযগা থাকে। আমি আশা করি, এখন যারা বিএনপির নেতৃত্বে আছেন, তারা পার্টির একটি ঠিকানা উপহার দেবেন।’
জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক বলেন, ‘দল হিসেবে বিএনপি ব্যাপক জনপ্রিয়। স্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলে সংগঠন আরও গতিশীল হবে।’
জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ মিষ্টার জানান, শহীদুল্লা কায়সার সড়কে দলীয় কার্যালয় গঠনের তৎসময়ে তিনি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। বেশ কয়েকবার জায়গার মালিকানা পরিবর্তন হওয়ার একপর্যায়ে ওয়ান ইলেভেনের সময় সেনাবাহিনীর সহায়তায় কার্যালয়টি ভেঙে ফেলা হয়। পরবর্তীতে দল ক্ষমতায় না থাকায় বিভিন্ন অস্থায়ী কার্যালয়ে দলীয় কার্যক্রম চালানো হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর বিএনপি ক্ষমতায় এলেও মূলত ক্ষমতায় রয়েছেন মন্ত্রী-এমপিরা। দলীয় কার্যালয় গড়ার দায়িত্বও তাদের। আমরা যারা দায়িত্বে আছি, আমাদের দল চালাতেই হিমশিম খেতে হয়।’
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, ‘ইসলামপুর রোডে আমাদের একটা পার্টি অফিস রয়েছে। আকার কিছুটা ছোট। নতুন অফিস নেওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছি। ইতোমধ্যে অফিস খোঁজা শুরু হয়েছে।’
প্রতিনিধি/এএইচ