Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

বিএনপিকে পথ দেখাচ্ছে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ এএম

প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পেরিয়ে ৪৯ বছরে পা দিয়েছে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করা দলটি মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে।

১৯৭৮ সালে দলটির আত্মপ্রকাশের পর থেকে দীর্ঘ এই রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় নেতৃত্ব ও সময়ের পরিবর্তন ঘটলেও দলের নীতিনির্ধারণ ও রাজনৈতিক দর্শনে প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ঘোষিত ‘১৯ দফা কর্মসূচি’ এখনো গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান প্রথম এই ১৯ দফা রূপরেখা উন্মোচন করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর তিনি এটিকে নিজ সরকারের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক মূলনীতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছিলেন। আত্মনির্ভরতা, শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলাই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য, যা আজও বিএনপির রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক নীতি-কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করে রেখেছে।

১৯ দফার মূলদিক ও কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে-

সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক মূলনীতি: ১৯ দফার প্রথম দফায় যেকোনো মূল্যে দেশের ‘সার্বভৌমত্ব’ রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়। দ্বিতীয় দফায় জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার অর্থে ‘সমাজতন্ত্র’-এই চার মূলনীতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।

মৌলিক অধিকার ও নিরক্ষরতা দূরীকরণ: সব নাগরিকের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে এতে। একইসঙ্গে দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন: কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বন্যা ও খরা মোকাবিলায় বদ্বীপাঞ্চলে কার্যকর ‘পানি ব্যবস্থাপনা’ এবং নগর-গ্রামের বৈষম্য দূর করতে প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ ও গ্রামীণ অর্থনীতি জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়।

শিল্পায়ন ও বেসরকারি খাতের বিকাশ: দ্রুত শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, উৎপাদন সর্বাধিক করা এবং বেসরকারি খাতে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক কল্যাণ ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ: পরিবার কাঠামোর টেকসই উন্নয়নে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, সিভিল সার্ভিস ও ভূমি সংস্কার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং যুবসমাজের ক্ষমতায়নের রূপরেখা এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়ন: নারীর অধিকার সমুন্নত রাখার পাশাপাশি উন্নয়নের মূলধারায় তাদের সম্পৃক্ততা, মর্যাদা ও আর্থসামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টি এতে প্রাধান্য পায়।

বৈদেশিক নীতি: সমতা ও একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রক্ষা এবং বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিইউ/এমআর