নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে পদযাত্রা ও গণসমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যজোট। কর্মসূচি থেকে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আইনে রূপান্তর এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটর মোড় থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মিছিলটি সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে পৌঁছায়।
‘বাংলাদেশ গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি’র ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, জামায়াতে যোগ দেওয়া সাবেক বিএনপি নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এবং জাগপার মুখপাত্র ও সহসভাপতি রাশেদ প্রধান অংশ নেন।
এ ছাড়া আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজন ও ভুক্তভোগীরাও পদযাত্রায় অংশ নেন।
পদযাত্রার আগে দুপুর ৩টার দিকে বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। ‘বাংলাদেশ গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান।
সমাবেশে বক্তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ দ্রুত পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করার দাবি জানান। হাসিনুর রহমান বলেন, অধ্যাদেশে যেসব বিধান রয়েছে, সেগুলো কোনো পরিবর্তন না করে আইনে রূপান্তর করতে হবে।
সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদেরও সমালোচনা করেন বক্তারা। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজন নেতা সেখানে বক্তব্য দেন।
সমাবেশ শেষে শুরু হয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘বাংলাদেশে আয়নাঘর, থাকবে না রে থাকবে না’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন ভারতে’ এবং ‘ঘেরাও ঘেরাও হবে, সংসদ ভবন ঘেরাও হবে’- এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ স্লোগানও দেওয়া হয়।
পদযাত্রা শেষে সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের গুম কমিশনের প্রতিবেদনে দেওয়া সুপারিশগুলো কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আইনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এমআই