Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

গুমবিরোধী আইন নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে: হুম্মাম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

প্রস্তাবিত গুমবিরোধী আইন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আইনটি প্রণয়নের আগে ব্যাপক গবেষণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশে বাস্তবায়নযোগ্য একটি আইন করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসাইন মানিক মিয়া হলে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা ও গুমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ: জবাবদিহিতা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রত্যয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকট ও চাপের মধ্যেও নির্বাচনের আগে, গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং তারও আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সরকার ভুলে যায়নি। সেই কারণেই গুম আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন সংসদের সামনে আনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, গত ২৭ আগস্ট গুমবিরোধী আইনটি পাসের জন্য সংসদে ভোট দেওয়া হয়েছে। এরপর এটি আইন-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে গেছে। দুই কার্যদিবসের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে সংসদে ফেরত পাঠানো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সরকার ও বিরোধী দলের সব সদস্য একসঙ্গে ভোট দিয়ে আইনটি পাস করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন হুম্মাম কাদের।

প্রস্তাবিত আইন নিয়ে কেন অন্তর্বর্তী সরকারের করা অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন আইন করা হয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে তাকে অনেকবার প্রশ্ন করা হয়েছিল। ব্যাপক গবেষণা এবং আইনমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর তিনি এখন বিষয়টির জবাব দিতে পারছেন।’

হুম্মাম কাদের বলেন, ‘এমন একটি আইন করা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বলতে পারে বাংলাদেশ সঠিক পথে ফিরেছে। একই সঙ্গে আইনটি যেন বাস্তবে কার্যকর করা যায় এবং পুলিশ বা অন্যান্য বাহিনীর মাধ্যমে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আইনটি নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হয়েছিল, তার একটি ছিল, কোনো ব্যক্তিকে গুম করার অভিযোগ যদি পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠে, তাহলে পুলিশই ওই ঘটনার তদন্ত করবে। এটি সঠিক নয়।’

হুম্মাম কাদের আরও বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এলে কমিশনের নিজস্বভাবে তদন্ত করার ক্ষমতা রয়েছে। কোনো অভিযোগ যদি একাধিক বাহিনীর বিরুদ্ধেও হয়, সে ক্ষেত্রে কমিশন নিজস্ব কমিটি গঠন করে স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারবে। গুমবিরোধী আইন একা পড়লে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। দুটি আইন একসঙ্গে পড়তে হবে। কারণ, সব বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিজস্বভাবে তদন্ত করার ক্ষমতা রয়েছে।’

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন- এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ওহাব মিনার। সঞ্চালনা করেন- দলের ছায়া সরকারবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, এফএসডিএসের চেয়ারম্যান ফজলে এলাহী আকবর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান, আলোকচিত্রশিল্পী শহীদুল আলম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, সড়ক ও জনপদবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, নারী উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সহসম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব রাশিদা আক্তার মিতু এবং রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী।

এ ছাড়া সেমিনারে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, গবেষক, আইনজীবী, পেশাজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এমআই