Dhaka Mail Logo

রাজনীতি

৬ মাসে বিরোধী জোটের এমপিরা ৩০৮ অপতথ্যের শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসে বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যদের ঘিরে ৩০৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের ঘিরে ১১৬টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যদের ঘিরে ১২৪টি অপতথ্য ছড়িয়েছে। তালিকাভুক্ত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের লক্ষ্য হয়েছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা ৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

রিউমার স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের ঘিরে মোট ১১৬টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের শিকার হয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাকে ঘিরে ৫৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।

এরপর গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ৩১টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। তিনি পরবর্তীতে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এ ছাড়া মারদিয়া মমতাজকে ঘিরে ১২টি এবং ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরকে ঘিরে চারটি করে অপতথ্য পাওয়া গেছে।

শাহজাহান চৌধুরি ও আমির হামজাকে ঘিরে তিনটি করে এবং রফিকুল ইসলাম খানকে ঘিরে একটি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।

এনসিপির এমপিদের ঘিরে ১২৪ অপতথ্য

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যদের ঘিরে ছয় মাসে মোট ১২৪টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। দলটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের লক্ষ্য হয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাকে ঘিরে ৫৯টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ঘিরে ২৭টি, ডা. মাহমুদা মিতুকে ঘিরে ২৬টি, আব্দুল হান্নান মাসউদকে ঘিরে সাতটি এবং নুসরাত তাবাসসুমকে ঘিরে পাঁচটি অপতথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালাকে ঘিরে একটি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে ঘিরে শনাক্ত হয়েছে ২২টি অপতথ্য।

অনলাইন ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানারের তথ্য মতে, সব মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ অন্যান্য সাংসদদের ঘিরে মোট ৩০৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি সরকারের প্রথম ১৮০ দিন বা ছয় মাস ঘিরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা কার্যক্রম আলোচনায় এসেছে, তেমনি এই সময়জুড়ে অনলাইন তথ্যপরিসরেও সক্রিয় ছিল নানা ধরনের অপতথ্য। সরকারের কর্মকাণ্ড, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ঘিরে ছড়িয়েছে বিভ্রান্তিকর দাবি। এছাড়াও বিকৃত তথ্য, পুরোনো ছবি-ভিডিওর নতুন প্রেক্ষাপটে ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে তৈরি বা সম্পাদিত কনটেন্ট।

অনলাইন ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম ১৮০ দিনে অর্থাৎ প্রথম ৬ মাসে সরকারকে নিয়ে ৪৬৪ অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। যার ৯১ শতাংশই নেতিবাচক প্রচারণা।

এমআর/এএস